প্রীতম সাঁতরা: ‘চেন্নাই সিটি এফসি দলের মালিক আমার বন্ধু …. আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে তার দিকেই’।

 

কিছুদিন আগে চেন্নাই সিটি এফসি টিমের মালিকের সম্পর্কে ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন মিনার্ভা পঞ্জাবের কর্ণধার রঞ্জিত বাজাজ। সূচি অনুযায়ী আই লিগের নির্ণায়ক ম্যাচ আবার চেন্নাই সিটি এফসির সঙ্গে মিনার্ভা পঞ্জাবের। মিনার্ভার বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট পেলেই চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই। সেখানে বাজাজের এই মন্তব্য নেহাতই কি উপেক্ষা করার মতো? আই লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফেডারেশন কি বাড়তি গুরুত্ব দেবে চেন্নাই-মিনার্ভা ম্যাচে?

আই লিগ সিইও সুনন্দ ধরের বক্তব্যের পর অন্তত তেমন আশা করা বোকামির। সুনন্দ ধর জানালেন, আই লিগের অন্যান্য ম্যাচের মতোই এই ম্যাচ। ম্যাচ কমিশনার থেকে অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন ম্যাচ চলাকালীন, এর অতিরিক্ত কিছু নয়। এখন প্রশ্ন হল, চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে মিনার্ভা গা ছাড়া ফুটবল খেললে ময়দানি সমর্থকরা তা কতটা মেনে নিতে পারবেন। ‘গট আপ’, ‘ম্যাচ ছেড়ে দেবে’ ইত্যাদি শব্দমালা শহর কলকাতায় খুবই প্রচলিত। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে মিনার্ভা হেরে বসলে এই শব্দমালাই হয়তো ফিরে আসবে পুনরায়। ‘ফেয়ার প্লে’ হলেও।

এ না হয় গেল আবেগি সমর্থকদের কথা। ইস্টবেঙ্গল তথা কোয়েস ইস্টবেঙ্গল কর্ম কর্তারা কী ভাবছেন আই লিগের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে? কোয়েস কর্তা সঞ্জিত সেন জানালেন, এই বিষয়ে তিনি বিশেষ ভাবতে নারাজ। ভাবতে চানও না। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমরা আশা করি সব দলই নিজের সেরাটা দেবে। ইস্টবেঙ্গল যেমন নিজের সেরাটা দিয়ে মাঠে নামবে, তেমনই নামবে অন্য দলেরাও। সেখানে এই রকম মন্তব্য মাঠে প্রভাব ফেলবে না বলেই আমি মনে করি।’ সঞ্জিত সেনের মতো প্রায় একই সুর লাল-হলুদ কর্তা শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত গলাতেও।

তিনি সাফ জানালেন, ‘মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে আমরা প্রায়ই শুনি ম্যাচ গট আপ হয়েছে বা ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছে অমুক ক্লাব। কিন্তু আসলে এসব কিছুই হয় না। প্রত্যেক দলই তৈরি হয়েছে, অন্য দলগুলি হারানোর জন্য। সেখানে রঞ্জিত বাজাজের এই আলটপকা মন্তব্যও ম্যাচে প্রভাব ফেলবে না। বাজাজ এরকম মন্তব্য আকচার করে থাকেন। আমাদের দলকেও বিপাকে ফেলা হয়েছিল। বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাই না।’ এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে খেদের সুরে তিনি বলে ওঠেন, গোলকিপিং-এর জায়গাটা বাড়তি নজর দেওয়া হলে ভালো হতো। শুরুতে এডেল বেঁটেকে নেওয়ার জন্য বলেছিলাম।’

আরও এক লাল-হলুদ কর্তা তথা ফুটবল সচিব রাজা গুহ বললেন, মিনার্ভা পঞ্জাব নিজেই এখন অবনমনের আওতায়। সুতরাং দলের কর্ণধার রঞ্জিত বাজাজও চাইবেন তাঁর দল জিতুক এবং অবনমের হাত থেকে রক্ষা পাক। সেখানে ম্যাচ ‘ছেড়ে’ দেওয়া মনে হয় না খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে। বন্ধুত্বের খাতিরেই এই কথা বলেছে হয়তো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here