corona news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেশে দ্রুতগতিতে করোনার ভাইরাসের স্যাম্পেল পরীক্ষা জোর ধাক্কা খেল। এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক তথা আইসিএমআর-র তরফে র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত সমস্ত রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিকে র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট বন্ধ করে দিতে বলেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি কিটে টেস্টের ফলাফল যতদিন পর্যন্ত না নির্ভুল হচ্ছে ততদিন এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারই সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে র‍্যাপিড টেস্ট দু’দিনের জন্য বন্ধ করে দিতে বলেছিল আইসিএমআর। কিন্তু তারপর থেকে এই কিট ব্যবহারে সবুজ সংকেত আর দেওয়া হয়নি। শনিবার আশঙ্কা সত্যি করে গোটা দেশেই এই কিটের ব্যবহারে একপ্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেওয়া হল। সূত্রের খবর, বিগত দু’দিনে আইসিএমআর ওই কিটগুলি পরীক্ষা করে দেখতে পেয়েছে, তাতে ফলাফল সঠিক আসছে না। এই পরিস্থিতিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে চিনের দু’টি কিট প্রস্তুতকারী সংস্থা। তারা ভুল কিট দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও চিনের সেই সংস্থা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের। তাদের কিট সঠিক থাকলেও যারা এই কিট ব্যবহার করছেন তারা সঠিকভাবে সেটা পারছেন না দাবি করেছিল চিন। প্রসঙ্গত, র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও রাজস্থান সহ একাধিক রাজ্য অভিযোগ জানিয়েছিল। এই কিটে সঠিক ফলাফল আসছিল না বলেই অভিযোগ উঠছিল।

র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট হচ্ছে একটি অন্য ধরনের পরীক্ষা। এতে করোনা ভাইরাস ধরা যায় না। বরং ওই ভাইরাস বিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরে তৈরি হয়েছে কিনা সেটা ধরার জন্য এই টেস্ট করা হয়। আসলে শরীরে কোনও ভাইরাস ঢুকলে দেহের মধ্যে নিজে থেকেই একটি ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। ফলে কারও শরীরে এই অ্যান্টিবডি পাওয়া গেলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তির সংক্রমণ রয়েছে। তখনই তাঁকে আলাদা করে করোনাভাইরাস টেস্ট করা হবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টের ফল পাওয়া যায়। ফলে এতে করোনা পরীক্ষা আরও সহজে হবে বলে মনে করা হচ্ছিল।

কিন্তু র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি কিট হাতে পাওয়ার পর থেকেই রাজস্থান সহ একাধিক রাজ্য প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, ওই কিটে গণ্ডগোল রয়েছে। মাত্র ৫.৪ শতাংশ সময়ে সঠিক রেজাল্ট দিচ্ছে এই কিট। বাকি সময় ভুল রেজাল্ট দেখাচ্ছে। রাজ্যের কাছে থেকে এহেন অভিযোগ পাওয়ার পরই তা খতিয়ে দেখা শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক তথা আইসিএমআর। কিটে যে সমস্যা রয়েছে তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েই এদিন নির্দেশ দেওয়া হল এই পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here