kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাল: গত মঙ্গলবার অমিত শাহের রোড শো ঘিরে কলকাতার কলেজস্ট্রিট এলাকায় যে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যায় তার জেরে বিদ্যাসাগর কলেজে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙায় তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে রাজ্য রাজনীতি। মহানগরের প্রান্ত ছাড়িয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের সর্বত্র। এমনকি তার রেশ পড়েছে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতেও। সকলের এখন একটাই প্রশ্ন, কে ভেঙেছে মূর্তি আর মূল দোষী কে? এই প্রশ্ন করতে সকলেই যখন ব্যস্ত তখন মূর্তি ভাঙার প্রায়শ্চিত্ত করে চলেছে বিদ্যাসাগরের শ্বশুরবাড়ির বংশধরেরা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল থানার ক্ষীরপাই এলাকায় ভট্টাচার্য পরিবারে দুদিন ধরে অরন্ধন উপবাস পালিত হওয়ার পর শুক্রবার আয়োজন হল শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের। তাদের ধারণা, মূর্তি ভাঙার জেরে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আরেকবার মৃত্যু হয়েছে। তাই তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তি বাইরে এনে আছড়ে ভেঙেছিল কেউ বা কারা। এই ঘটনায় চারদিকে নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনার পিছনে কারা দোষী তা খুঁজতে সকলেই ব্যস্ত। অনেকে বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান বিক্ষোভ, নানান রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নিয়েছে এই ঘটনাকে সামনে রেখে। বিদ্যাসাগরের গ্রাম বীরসিংহ এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিলও করেছে ঘটনার পরের দিন। দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন তারা।

সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই ক্ষীরপাই এলাকা। এখানকার ভট্টাচার্য্য পরিবারে দুদিন ধরে অরন্ধন পালিত হল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৩৪ সালে ক্ষীরপাইয়ের বাসিন্দা পন্ডিত শত্রুঘ্ন ভট্টাচার্যের কন্যা দিনময়ী দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। সেই পরিবারের বংশধরেরাই বিদ্যাসাগরের এই মূর্তি ভাঙার ঘটনাতে শোকস্তব্ধ। তাদের ধারণা এই ঘটনার জেরে বিদ্যাসাগরের দ্বিতীয়বার মৃত্যু হয়েছে। তাই তার আত্মার শান্তি কামনা করা প্রয়োজন।

মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনায় যেভাবে চতুর্থী পালিত হয় সেভাবেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এই পরিবারে। ভট্টাচার্য পরিবারে গত দুদিন ধরে অরন্ধন পালিত হয়েছে। উপবাসে ছিলেন সকলেই। এরপর শুক্রবার সকাল থেকেই শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাড়ির বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে ছোটরা সকলেই এই দুদিনের কর্মসূচিতে শামিল হয়ে আত্মার শান্তি কামনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here