bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের পর দেশে ধর্ষণ কাণ্ডে আরও একবার নৃশংসতার নজির গড়েছে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও। জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্যাতিতাকে। শুক্রবার রাতে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মৃত্যু হয়েছে ওই নির্যাতিতার। এর ঠিক পরই এবার সরব হয়ে উঠল দিল্লি মহিলা কমিশন। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল সরকারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘একমাসের মধ্যে ফাঁসিকাঠে ঝোলাও ধর্ষকদের।’

দেশজুড়ে গণধর্ষণ ও বীভৎস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বর্তমানে অনশনে বসেছেন দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বাতী বলেন, ‘আমি উত্তরপ্রদেশ সরকার ও দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার কাছে অনুরোধ করছি অবিলম্বে ধর্ষকদের শাস্তি দিন। এই ধরনের গুরুতর অপরাধে একমাসের মধ্যে ফাঁসিকাঠে ঝোলান হোক দোষীদের।’ পাশাপাশি কান্নাভেজা চোখে তিনি আরও বলেন, ‘প্রচুর লড়াই করেছিল মেয়েটা। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত বলে গিয়েছিল আমি মরতে চাই না। আমার সঙ্গে যারা এটা করল তাদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই আমি। মরে গেল মেয়েটা।’ এরপরই তার দাবি, ‘সরকার এই ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নিক।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষণ মামলার শুনানির জন্য আদালতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা ওই তরুণী। রায়বরেলি থেকে ট্রেন ধরে আদালতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পথে তাঁকে ধাওয়া করে ৫ দুষ্কৃতী। সেই দলে ছিল ধর্ষণে অভিযুক্ত শিবম ত্রিবেদী এবং শুভম ত্রিবেদী। রেলগেটের কাছে এক নির্জন জায়গায় প্রথমে লাঠি দিয়ে নির্যাতিতার পায়ে সজোরে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। এরপর ছুরি চালানো হয় গলায় সবশেষে গায়ে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় নির্যাতিতাকে। ওই অবস্থাতেই প্রায় ১ কিলোমিটার দৌড়ে এক ব্যক্তির কাছে ফোন চেয়ে পুলিশকে ফোন করে সে। স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ার এয়ারলিফট করে তাঁকে উড়িয়ে আনা হয় দিল্লিতে। শুক্রবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের ‘বার্ন ও প্লাস্টিক’ ডিপার্টমেন্টের প্রধান চিকিত্সক শলভ কুমার জানান, শুক্রবার রাত ১১ টা ১০ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই নির্যাতিতা এরপর ১১টা ৪০ নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here