কোভ্যাকসিন টিকা নেন প্রধানমন্ত্রী

মহানগর ডেস্ক: দেশ জুড়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সহ বিশিষ্ট নেতা মন্ত্রীরা দেশবাসীকে টিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান । তাঁদের মুখে ঘুরেফিরে উঠে আসে একটাই কথা, ‘টিকা নিরাপদ এবং কার্যকর’। দেশীয় গবেষকদের তৈরি ‘কোভ্যাকসিন’ প্রধানমন্ত্রী নিজে নিলেও কোভ্যাকসিন নিয়ে চর্চা অব্যাহত সর্বত্র। এমতাবস্থায় সামনে এসেছে কোভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট। দেখা গিয়েছে করোনা ঠেকাতে কোভ্যাকসিন ৮১শতাংশ কার্যকর।

সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড তাদের ভ্যাকসিনের তিন পর্যায়ের রিপোর্ট সামনে আনলেও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিনকে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে ছাড়পত্র দেয় ভারত। বুধবার ভারত বায়োটেকের তৈরি টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট প্রকাশ্যে নিয়ে আসে দ্য ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল। ওই রিপোর্টে দেখা গেছে, গত বছর দ্বিতীয় ট্রায়ালের সময় ভ্যাকসিন মাত্র ৬০শতাংশ কার্যকর হলেও বর্তমানে ভ্যাকসিন ৮১শতাংশ কার্যকর। যা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে সক্ষম। পাশাপশি কোভ্যাকসিনের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলেই জানানো হয়েছে।

এদিকে মহারাষ্ট্র, কেরল সহ একাধিক রাজ্যে ফের মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে করোনা। গত চব্বিশ ঘন্টায় মহারাষ্ট্রে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আট হাজার, কেরলে আক্রান্ত তিন হাজারের আশেপাশে। মহারাষ্ট্রের একাধিক আক্রান্তের শরীরে ব্রিটেন ও আফ্রিকার স্ট্রেনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় কোভ্যাকসিন এই নয়া প্রজাতির স্ট্রেনের বিরুদ্ধেও কার্যকর বলে ওই সমীক্ষায় জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত বায়োটেক অনেকদিন থেকেই দাবি করে আসছে যে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর। প্রধানমন্ত্রী নিজেও কোভ্যাকসিন টিকা নিয়ে দেশের কাছে নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। সঙ্গে দেশবাসীকে কোভ্যাক্সিন টিকা নেওয়ার আবেদনও জানান তিনি। কিন্তু তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের আগেই টিকাকরণ শুরু হওয়ার দরুন প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সরকারকে। এমনাবস্থায় নতুন সমীক্ষার রিপোর্ট কেন্দ্রকে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here