international news

মহানগর ওয়েবডেক্স: কোভিড–১৯ সংক্রমণের সঙ্গে বায়ু দূষণের কি কোনও সম্পর্ক রয়েছে? প্রশ্নটা বেশকিছুদিন ধরেই ভাবাচ্ছিল চিকিৎসা ও পরিবেশ বিজ্ঞানীদের। সম্প্রতি ভেরোনা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্ট্যানফোর্ড স্কুল অব মেডিসিনের পর্যবেক্ষণে এ্রকমই এক যোগসূত্রের আভাস পাওয়া গেল। ইতালির যে শহরে দূষণের মাত্রা বেশি সেই শহরগুলিতেই করোনার প্রভাব সর্বাধিক এমনই পরিসংখ্যানগত তথ্য গবেষকরা পেয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, যে সব শহরে বছরে ১০০ দিনের ওপরে বাতাসে ভাসমান অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম১০) নিরাপদ মাত্রার থেকে বেশি পরিমাণে থাকে, সেই সব শহরে সংক্রমণের সম্ভাবনা অন্যান্য শহর থেকে তিন গুণ বেশি। গবেষণপত্রটি কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হতে চলেছে বলে জানিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

গবেষকদের এই পর্যবেক্ষণ অবশ্য ইতালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং কোথাও স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়নি যে বায়ু দূষণের সঙ্গে কীভাবে সংক্রমণের বিষয়টি জড়িত। কিন্তু এই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ হয়তো এই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনও যোগসূত্রের সন্ধানে গবেষণাকে সাহায্য করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। পৃথিবীর দূষিততম শহরগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি ভারতেই অবস্থিত। দিল্লির দূষণ বেশ কিছুদিন সংবাদ শিরোনাম হয়েছে দূষিততম বাতাসের কারণে। ফলে সংক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ভেরোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যবেক্ষণ কিছুটা হলেও দেশের গবেষকদের দিশা দেখাতে সক্ষম বলে মনে করা যায়। যদিও গবেষকদের অভিমত যে এই পর্যবেক্ষণকে কখনওই সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

বায়ুদূষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষের ওপর তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে বাধ্য। এমনকি এই পরিস্থিতিতে কম বয়সি ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারীরাও বিভিন্ন দূষণজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। দূষণের মাত্রা যেখানে বেশি সেখানকার অধিবাসীদের দূষণমুক্ত বা অপেক্ষাকৃত কম দূষিত এলাকার মানুষদের থেকে বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ইতালির ক্ষেত্রে কোভিড–১৯ সংক্রমণ অনেক বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিয়েছে লোম্বার্ডি শহরে, তুলনায় অন্য একটি শহর রোমাগ্না এ্কই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সংক্রমণ অতটা মারাত্মক হয়ে ওঠেনি ভাসমান অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ কম থাকার কারণে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে আইসিএমআর–এর ডিরেক্টর কল্পনা বালকৃষ্ণন বলেন, অন্যান্য বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধুমাত্র দূষণ এবং সংক্রমণের মধ্যেকার সম্পর্ক দেখলে সঠিক হবে না। গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হলে খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করলেই তবে এই বিষয়ে মতামত দেওয়া সম্ভব বলে জানান বালকৃষ্ণন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here