নিজস্ব প্রতিবেদক, ভাঙড়: পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড়ের জমি কমিটির বাধায় বন্ধ ছিল পোলেরহাট ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন। সদ্য ওই পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হলেও এখনও প্রধান, উপপ্রধান সেই ভাবে পঞ্চায়েত অফিসে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ। আঙুল উঠেছে জমি কমিটির দিকে। আর এই অভিযোগের পরেই শুক্রবার ভাঙড় ২ ব্লকের বিডিওকে ওই পঞ্চায়েতের আরাবুল ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত সদস্যা তৃপ্তি বিশ্বাস পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, পোলেরহাট ২ পঞ্চায়েতের ১৬ টি আসনের মধ্যে ৮ টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যায় তৃণমূল। তারমধ্যে তৃপ্তি বিশ্বাসও ছিলেন। আটটি আসনে নির্বাচন হলেও পাঁচটি আসনে জিতে যায় জমি কমিটি সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা। বাকি তিনটি আসনে জেতে তৃণমূল। তারপর থেকেই জমি কমিটি অভিযোগ তোলে মানুষের রায়ে তৃণমূল ওই পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় আসেনি। মানুষের রায়ে জমি কমিটি সব থেকে বেশি আসন পেয়েছে। তাই ওই পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের অধিকার একমাত্র তাদেরই আছে। তাছাড়া কমিটির দাবি ওই পঞ্চায়েতে কোন দুষ্কৃতীদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। সেই কারণে জমি কমিটির বাধায় তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে ওই পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করতে পারেনি। শেষমেষ হাইকোর্টের নির্দেশে ও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে ওই পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। বোর্ড গঠনের আগে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় জমি কমিটির দাবি অনুযায়ী ঠিক হয়েছিল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তৃপ্তি বিশ্বাসকে প্রধান করার কথা। সেক্ষেত্রে আরাবুল ইসলামের পুত্র হাকিমুল ইসলাম উপপ্রধান হলে তাদের কোন আপত্তি থাকবে না। কিন্তু বোর্ড গঠনের দিন তৃপ্তি বিশ্বাস বেঁকে বসায় তাকে প্রধান না করে সবিতা বিশ্বাসকে প্রধান মনোনীত করে তৃণমূল সদস্যরা। তারপর থেকেই জমি কমিটি ও এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগ বোর্ড গঠনের পর জমি কমিটি তৃপ্তি বিশ্বাসের স্বামী কিনু বিশ্বাসের বাড়ি, দোকান ভাঙচুর করে। সেই থেকে তারা এলাকায় থাকতে পারছেন না বলে অভিযোগ করে আসছেন। তারপরেই এদিন তৃপ্তি বিশ্বাস ওই পঞ্চায়েতের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন।

তৃপ্তি বিশ্বাসের স্বামী কিনু বিশ্বাস বলেন, “বোর্ড গঠনের পর আমার বাড়ি, দোকান ভাঙচুর করল জমি কমিটি। দলের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানানোর পরেও কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমার স্ত্রী ওই পঞ্চায়েতের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।” এবিষয়ে ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি ওহিদুল ইসলাম বলেন, তৃপ্তি বিশ্বাসের পাশে দল আগাগোড়াই ছিল। তিনি দলীয় টিকিটে জিতেছেন। কিছু অশুভ শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি দলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পুরো বিষয়টির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সেইমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমির কমিটির সদস্য মির্জা হাসান বলেন, তৃপ্তি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। তাদের দলীয় টিকিটে তিনি জিতেছেন। তার দল তাঁর পাশে কেন দাঁড়ায়নি সেটা তিনি বলতে পারবেন। এলাকার মানুষ চেয়েছিল তিনি প্রধান হন। তিনি মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করে বোর্ড গঠনের দিন প্রধান হবেন না বলে বেঁকে বসেন। এনিয়ে এলাকার মানুষ তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। তাঁর শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে তাই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here