bengali news kolkata

Highlights

  • সোনার চেয়েও প্রায় ৫ গুণ বহুমূল্য
  • চলতি বছরেই রূপোলি রঙের এই ধাতুর দাম বেড়েছে প্রায় ২২৫ শতাংশ
  • প্রতি আউন্সে দাম প্রায় ৮,২০০ মার্কিন ডলার

 

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ২০০৮ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ল ‘রোডিয়াম’-এর। সোনার চেয়েও প্রায় ৫ গুণ বহুমূল্যের এই ধাতুর দাম বাড়ল প্রায় ৩২ শতাংশ। চলতি বছরেই রূপোলি রঙের এই ধাতুর দাম বেড়েছে প্রায় ২২৫ শতাংশ।

প্রতি আউন্সে দাম প্রায় ৮,২০০ মার্কিন ডলার। গাড়ির অটো ক্যাটালিস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই বহু মূল্যবান ধাতু।

পৃথিবীজুড়ে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞার কারণে মহার্ঘ্য হয়ে উঠেছে রোডিয়াম। বিগত ৪ বছরে ১২ বার লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে স্বয়ংচালিত গাড়ি তৈরিতে অন্যতম প্রয়োজনীয় এই জিনিসের দাম। জল্পনা, এত দাম হওয়া সত্ত্বেও গাড়ি প্রস্তুতকারক বিভিন্ন সংস্থার হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে এই ধাতু কেনার জন্য। মূলত প্ল্যাটিনাম এবং নিকেলের উপজাত এই ধাতু। ব্যবহারের তুলনায় কম সহজলভ্যতার জন্যই এত দাম হয়েছে রোডিয়ামের।

রাশিয়ার ‘এমএমসি নরলিক্স নিকেল’-এর বিশ্লেষণ ও বাজার বিকাশের প্রধান অ্যান্টন বার্লিন বলেন, ‘রোডিয়াম খনির প্রায় ১০ শতাংশের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই ধাতু সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা অনেক কষ্টসাধ্য। ২০১৯-এর শেষ দিকে বড় বড় শিল্প সংস্থায় এর চাহিদা বিপুল ভাবে বেড়েছে। দামের পরোয়া করা হচ্ছে না কেনার ক্ষেত্রে’।

এর আগে রোডিয়ামের দাম ছিল ৭,৯৭৫ মার্কিন ডলার। মধ্য প্রাচ্যেও ব্যাপক চাহিদা ও আবেদনের ভিত্তিতে প্যালাডিয়াম জাতীয় এই ধাতুর দাম ৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের অনেকেই এই মূল্যবান ধাতু থেকে মুখ ফেরালেও লাভ হয়েছিল ভালোই।

‘হেরিয়াস হোল্ডিং’ সংস্থার আন্দ্রেস ড্যানিয়েল বলেন, জানুয়ারির প্রথম থেকেই এশিয়া থেকে এই ধাতুর ব্যাপক চাহিদা ছিল। ঢল লেগেছিল গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থারও। নিয়ন্ত্রিত বাজার হলেও চাহিদা কমেনি। এই মূল্য বৃদ্ধি প্রতি ১০ বছরেই এভাবে হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

সুইজারল্যান্ডের এমকেএস প্যাম্প গ্রুপে ট্রেডিংয়ের প্রধান আফশিন নববি বলেন, রোডিয়ামের জন্য দাম ১০,১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। বলা হয়, এক দশক আগেও মূল্য বৃদ্ধি হওয়ার জন্য অটোক্যাটালিস্ট প্রস্তুতকারীদের প্ল্যাটিনাম এবং প্যালেডিয়াম দিয়েই স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রস্তুত করতে বলা হয়েছিল। তা করলে রোডিয়ামের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর তুলনায় রোডিয়ামে বিনিয়োগ করা অনেক বেশি কঠিন। রোডিয়াম বিনিময় করে লেনদেন করা যায় না। তা কেবলমাত্র সম্ভব চুক্তিকারী এবং শিল্প ব্যবহারকারীদের মধ্যে। প্লাটিনাম বা প্যালাডিয়ামের থেকে প্রায় ১০ গুণ বেশি চাহিদা রয়েছে রোডিয়ামের।

তবে বহুমূল্য এই রোডিয়াম দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সুসংবাদ এনেছে। বিশ্বব্যাপী রপ্তানির চাহিদা এখানে ৮০ শতাংশের বেশি। এই বাজার জোড়া আধিপত্যের একমাত্র কারণ ‘ঝুঁকি’। ২০১৯ সালে বিদ্যুতের ঘাটতির জন্য কিছু খনির কাজ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্থ হয়েছিল। কর্মীরা বেতন নিয়ে ধর্মঘটও করেছিল।তবে বাজার এখনও এই দেশের হাতেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here