kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের আগামী দফার ভোটগ্রহণের দিনগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে ভোটদাতাদের পরিচয়পত্র পরীক্ষার অধিকার ফেরানোর দাবি উঠল। বিজেপি এবং বামফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে সেই আবেদন জানিয়েছে। বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়ার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি জানান। এর আগে সিপিএম নেতা রবীন দেব একই দাবি নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দ্বারস্থ হন।

শিশির বাজোরিয়া বলেন, ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন সংক্রান্ত নিয়মে বলা আছে, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ এবং গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সেখানে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এ ব্যাপারে কমিশনকে বিভ্রান্ত করেছেন বলে তাঁর অভিযোগ। রবিন দেব ও একই সুরে বলেন, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী যাতে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি ভোটারদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে, সে ব্যাপারে তারা কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামের নির্বাচনের পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের পরিচয়পত্র ভেরিফিকেশন করছে- এই ছবি নিয়ে শুক্রবার কমিশনে অভিযোগ করে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি চিঠিও দেওয়া হয় কমিশনে। এর পরেই এডিজি আইন-শৃঙ্খলা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসার অশ্বিনী কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইও। এই বৈঠকে অভিযোগ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।

তারপরেই নির্বাচন কমিশন নির্দেশিকা জারি করে জানায় ভোট কেন্দ্রের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান বা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা ভোটারদের পরিচয়পত্র দেখতে পারবেন না। সেখানে বলা হয়, নির্বাচনী বিধিতে বুথের ভেতর বাহিনী অথবা পুলিশ কারওরই ঢোকার এক্তিআর নেই। কারণ, বিধি অনুযায়ী পুলিশ বা বাহিনীকে বুথের ভেতর ঢুকতে গেলে প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি নিতে হবে। ভোটদাতাদের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখার দায়িত্ব ফাস্ট পোলিং অফিসারের। বুথের ভিতরে বাহিনীর জওয়ানরা শংসাপত্র দেখছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে ব্যাপারে কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১১টি পরিচয়পত্র ভোটদানের জন্য বৈধ বলে বিবেচিত। এর মধ্যে যে কোনও একটি দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here