কারফিউ জারি সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কায় হিংসা অব্যাহত, মৃত ১

0
33
curfew

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ইস্টারে হামলার জেরে সাম্প্রদায়িক হিংসার কবলে পড়েছে শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। তা সত্ত্বেও প্রাণ গেল ১ মুসলিম প্রৌঢ়ের। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে শ্রীলঙ্কার পুত্তালাম জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সি ওই প্রৌঢ়কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই দাঙ্গায় এটাই প্রথম মৃত্যু।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার থেকে পুত্তালাম সহ শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় হিংসাত্মক ঘটনা শুরু হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকলেও দিনের বাকি সময় কারফিউ থাকে না। সেই সুযোগেই সোমবার সন্ধ্যার পর ৪৫ বছর বয়সি ওই মুসলিম প্রৌঢ়ের উপর হামলা চালাল একদল যুবক। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক জানান, ওই প্রৌঢ় রাস্তার পাশে নিজের কাঠের দোকানে কাজ করছিলেন। আচমকা একদল উন্মত্ত জনতা তাঁর দোকানে ঢুকে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তারপর ওই দোকানে পড়ে থাকা কাঠ কাটার যন্ত্র নিয়ে তাঁকে কয়েকটি কোপ মারে। তারপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই প্রৌঢ়কে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করে। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ওই হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাত্কার দিয়ে শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান চন্দনা বিক্রমরত্নে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবার দেশবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে।

ইস্টার হামলার পর থেকেই শ্রীলঙ্কায় মুসলিম-বিরোধী উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছিল। তারপর গত রবিবারই প্রথমবার রবিবারের প্রার্থনার জন্য গির্জাগুলি খুলে দেয় ক্যাথলিক সম্প্রদায়। এরপরই মুসলিম-বিরোধী উত্তাপ আরও তীব্র হয়। মুসলিমদের বাড়ি, দোকানপাট এমনকি মসজিদেও হামলা শুরু হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে সারারাতের জন্য কারফিউ জারি করে শ্রীলঙ্কা সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here