মহানগর ডেস্ক: যেন এগোতেই চাইছেনা রোড শো! সমগ্র রাস্তা জুড়ে মানুষের ভিড়। প্রখর সূর্যের তাপ উপেক্ষা করে জোড়া ফুলের ছাপ দেওয়া নীল টুপি পরে শামিল হাজার হাজার মানুষ। তাদের দিকে বারবার হাত নাড়ছে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। ভিড়ে থাকা মানুষের দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছেন ফুলের পাপড়ি। রোড শোয়ের পিছনে ডিজেতে ভেসে আসছে ‘সারে যাহাসে আচ্ছা’ গানের সুর। বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া কলেজ মোড় থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত দুপুরের ছবিটা ছিল কার্যত এরকমই।

দুপুর দু’টো থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা শেষে চৌরাস্তা মোড়ে শেষ হওয়ার পর গাড়ির উপর থেকেই উপস্থিত কর্মীসমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন অভিষেক। অন্যদিনের মতো এদিনও বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘দুপুরে কাঠফাটা রৌদ্দুরে যারা পদযাত্রায় অংশ নিতে আসেন, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েই আসেন যে বাংলা থেকে বহিরাগতদের বিতাড়িত করবো।’ প্রসঙ্গত, ২০১৯ শে এই কেন্দ্রের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে যেতে বিজেপি। তাই বিজেপির থেকে এই আসনটি ছিনিয়ে আনতে এখানে একের পর এক রোড-শো সভা করছেন পিসি-ভাইপো দুজনেই। এদিন মূলত বাঁকুড়ার তৃণমূল প্রার্থী সন্তোষ কুমার মন্ডলের উদ্দেশ্যেই রোড-শো করেন অভিষেক। বাঁকুড়াবাসীকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘ভোটটা সন্তোষ কুমার মন্ডলকে নয়, ভোটটা আপনারা মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দিচ্ছেন।’

বাঁকুড়া বাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির বহিরাগত দের কাছে বশ্যতা শিকার করুক ? তিনি বলেন, যত জয় শ্রীরাম বলেছে, তত পেট্রোল ডিজেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছি জয় শ্রী রাম নয়, জয় সীতারাম বলিয়েই ছাড়াবো। ইতিমধ্যেই ওরা বলতে শুরু করে দিয়েছে।’ তবে এদিনের বক্তব্যে সেরকম নতুনত্বের স্বাদ পায়নি বাঁকুড়ার মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে একই ভাষণ দিয়ে আসছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ভারতবর্ষের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, আর তাকে তাঁকে হারানোর জন্য দিল্লির তাবড় তাবড় নেতারা আজ ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছে। কিন্তু যখন লকডাউন হয়েছিল, বাবুদের ঠিকি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একইসঙ্গে বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দিকে দিকে যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে তাকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিষেক। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যারা নিজেদের দলে মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে পারেনা, তারা কিভাবে বাংলার শান্তি বজায় রাখবে ?’ অভিষেক মনে করিয়ে দেন, “এটা বাংলা, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ কিংবা গুজরাট না। বিজেপি সোনার বাংলা করবে বলছে, তাহলে এতদিন ধরে সোনার উত্তরপ্রদেশ, সোনার মধ্যপ্রদেশ, সোনার রাজস্থান, সোনার আসাম হয়নি কেন ?” অভিষেকের কটাক্ষ, “মোদি, অমিত শাহরা সোনার বাংলাও ঠিক করে বলতে পারেনা, ‘সুনার বাংলা’ বলে।”

পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যনাথের সভাকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘এদের সভায় যা লোক দেখলাম, তার থেকে সকালে চায়ের দোকানে বেশি ভিড় হয়। গতকাল বলররামপুরে সভা করছেন যোগী আদিত্যানাথ, তাঁর সভার থেকে গ্রামে জেসিবি দিয়ে মাটি কাটার সময় তা দেখার জন্য বেশি লোক থাকে।’ তৃণমূলকে আরও একবার সরকারে ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে অভিষেকের বার্তা, ‘বাঁকুড়ার মানুষ দিচ্ছে রায়, বাংলা নিজের মেয়েকেই চাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here