ডেস্ক: গত কয়েক বছর ধরে সময়টা একেবারেই ভাল যাচ্ছে না ইস্টবেঙ্গলের৷ স্পনসর সমস্যা থেকে শুরু করে ট্রফি খরাতে শুধু হতাশাই সঙ্গী হয়েছে লাল-হলুদ শিবিরের৷ একের পর এক কোচ বদলেও ভাগ্য বদলায়নি ইস্টবেঙ্গলের৷ শিবরাত্রির সলতের মত শুধু কলকাতা লিগ সম্বল হয়েছে তাদের৷ গক কয়েকটি মরশুমে আই লিগের খুব কাছে গিয়েও তা ছুঁয়ে দেখা হয়নি লাল-হলুদ বাহিনীর৷ যার অন্যতম কারণ, ভুল বিদেশি চয়ন৷ নামে বিদেশি হলেও কার্যক্ষেত্রে তারা যে অতল আধুলি তা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছেন ক্লাব কর্তারা৷ এবার তাই দলবদলের শুরু থেকেই ভাল মানের বিদেশিতে মন দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল৷ তাদের সেই উৎসাহে অক্সিজেন জুগিয়েছে ‘কোয়েস’৷ এই সংস্থাই এবার লাল-হলুদের অফিসিয়াল স্পনসর৷ কোয়েসের হাত ধরে এবার একের পর এক চমক দিতে শুরু করেছে ‘নিতু সরকার অ্যান্ড কোং’৷

বুধবারই সামনে আসে জনি অ্যাকোস্তার নাম৷ চলতি বিশ্বকাপের আসরে যিনি কোস্টারিকার জার্সিতে রক্ষণটা সামলেছেন৷ রাশিয়ার মাটিতে নেইমারের মত ফুটবলারকে চালেঞ্জ জানিয়েছেন কিছুদিন আগেই৷ এই ডিফেন্ডারের সঙ্গে বিশ্বকাপের মধ্যেই চুক্তি পাকা করে ফেলেছে লাল-হলুদ কর্মকর্তারা৷ ইস্টবেঙ্গল দুর্গের প্রহরী হতে আগস্টেই কলকাতায় চলে আসবেন তিনি৷ আর অ্যাকোস্তার নাম সামনে আসার চব্বিশ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই আরও বড় নাম উঠে এল ময়দানের দলবদলের বাজারে৷ এবং সেটাও ইস্টবেঙ্গেলর অনুকূলে৷

ময়দানে কান পাতলেই ফিসফাস শোনা যাচ্ছে রবিনহোর নাম৷ ক্লাব সূত্রে খবর, এই ব্রাজিলিয়ান তারকার জন্য অল-আউট ঝাঁপাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল৷ তাঁর এজেন্টের সঙ্গে নাকি প্রাথমিক কথাবার্তাও শুরু হয়েছে৷ একটা সময়ে যাঁকে ব্রাজিলেও পেলের উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হচ্ছিল৷ ব্রাজিলের হয়ে শুধুমাত্র বিশ্বকাপ খেলাই নয়, রবিনহো খেলেছেন এসি মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে। অর্থাৎ, ইউরোপের তিনটি সেরা লিদ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে রবিনহোর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে৷ ৫ ফুট ৮ ইঞ্চির রবিনহো ২০০৬ ও ২০১০ সেলেকাওয়ের জার্সিতে বিশ্বকাপে খেলেছেন। ব্রাজিলের হয়ে ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দেশের হয়ে গোল করেছেন ২৮টি। ২০১৭ সালে শেষবার বজাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি৷ ৩৪ বছরের এই স্ট্রাইকারের বর্তমান ঠিকানা এখন তুরস্কের সিভাস্পোর৷ এই ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি রয়েছে ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত৷

ক্লাবের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রবিনহোর এজেন্ট নাকি ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা দাবি করেছে এক বছরের জন্য৷ এখানেই শেষ নয়, রবিনহোকে লাল-হলুদ জার্সি পড়াতে ট্রান্সফার ফি বাবদ আরও ১৬ কোটি টাকা দিতে হবে। এত মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে রবিনহোকে আনার প্রাসঙ্গিকতা অবশ্য ক্লাবেরই একাংশো ভালভাবে দেখছেন না৷ রবিনহোকে একান্ত পাওয়া না গেলে বিকল্প তৈরি আছে ইস্টবেঙ্গেলর৷ ক্লাবের অন্দরে পা রাখলে শোনা যাচ্ছে, ইরানের সর্দার আজমুনের নাম। ইরান চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেওয়ায় পরই জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। ইস্টবেঙ্গল রিক্রুটাররা তাঁর জন্যও ঝাঁপাতে চাইছেন৷

কোয়েসের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর থেকেই নতুন উদ্যমে দলগড়ার কাজে নেমে পড়েছেন লাল-হলুদ কর্তারা৷ কোয়েস ইস্টবেঙ্গলের লক্ষ্য সেরা দল গড়ে আইএসএলে অংশ নিতে৷ এবং ভারতসেরা ক্লাবের সম্মান পুনরুদ্ধার করতে৷ তাই শুধু ভালমানের ফুটবলারই নয়, ভাল কোচেরও সন্ধান চালাচ্ছে ক্লাবকর্তারা৷ বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে চুক্তির একটা খবর শোনা যাচ্ছে৷ আর সেটা হলে আইএসএলের প্রস্তুতি সেখানেই চলবে৷ এবং সেখান থেকেই উঠে আসছে এক জার্মান কোচের৷

তবে এই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের এক শীর্ষকর্তার সঙ্গে যোদাযোদ করা হলে, তিনি বিশেষ কিছু বলতে চাননি৷ তবে নামগুলি যে আলোচনায় রয়েছে সেটা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here