kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: মাতৃভূমি আজ বিপদে। প্রবাসে থেকেও মন কাঁদছে দেশের জন্য। করোনার কারণে বিপর্যস্ত গোটা দেশের পাশাপাশি বাংলাও। বাদ নেই যেখানে বেড়ে ওঠা সেই জায়গা। পরিবার-পরিজনদের কাছ থেকে নিয়মিত পাচ্ছেন এলাকার খবর। জানতে পেরেছেন অন্য জায়গার মতো সেখানেও হাহাকার অক্সিজেনের। গরিব মানুষের দরকার কিছু খাবার। ছোটবেলা যাদের সঙ্গে বেড়ে ওঠা, সেই মানুষগুলির বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন গোবরডাঙার চ্যাটার্জীপাড়ার ছেলে রোমিও নাথ।

এখন তিনি তুরস্কের বাসিন্দা। বেশ কয়েক বছর হল তিনি জন্মভূমি ছেড়ে তুরস্কে পাকাপাকি বাস করছেন। যোগগুরু হিসাবে তুরস্কে বেশ নামডাক হয়েছে তার। সেখানে তিনি একটি যোগ স্টুডিও বানিয়েছেন। সেই দেশের এক মহিলাকে বিয়ে করে থিতু হয়েছেন সেখানেই। দু’জনে মিলে যোগ স্টুডিওটি চালান।

​করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বেসামাল এই বাংলা। বাদ নেই গোরবডাঙাও। বাবা-মা ও ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত খবর পাচ্ছেন গোরবডাঙা এলাকার। জানতে পারেন বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছেন অক্সিজেনের অভাবে। এটা জানতে পারার পর আর দেরি করেননি তিনি। যে এলাকার ধুলো-কাদায় তিনি বড় হয়েছেন, সেই এলাকার জন্য তিনি সুদূর তুরস্ক থেকে পাঠিয়েছেন চারটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। শুধু তাই নয় একইসঙ্গে তিনি পাঠিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। যে টাকায় গরিবদের হাতে কিছু খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া যাবে কয়েক দিনের জন্য।

​রোমিওর ভাই সন্দীপ নাথ এয়ারপোর্ট থেকে অক্সিজেন অক্সিজেন কনসেনট্রেটরগুলি সংগ্রহ করে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় পুর প্রশাসক সুভাষ দত্তের হাতে। সুভাষ দত্ত জানিয়েছেন, এই হাহাকারের সময় রোমিও নাথের পাঠানো অক্সিজেন কনসেনট্রেটরগুলি খুবই কাজে লাগবে। পুরসভার অক্সিজেন পার্লারে ২৪ ঘণ্টা রাখা থাকবে এই অক্সিজেন কনসেনট্রেটরগুলি। মানুষের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা হবে।

​মাতৃভূমির বিপদে শুধু ইস্তামবুল থেকে যে ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন গোবরডাঙার যুবক রোমিও নাথ, তাতে তার এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। রোমিও জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখছেন এলাকার লোকজনের সঙ্গে। কারও কোনও বিপদ হলে তিনি যথাসাধ্য সাহায্য করছেন তার এখানকার বন্ধু-বান্ধবদের মাধ্যমে। তারা ছুটে যাচ্ছেন বিপদগ্রস্ত সেই সব লোকজনের বাড়িতে। এক কথায় একটি টিম বানিয়ে শুধু ইস্তামবুল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে রোমিও এই কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন গোবরডাঙায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here