মহানগর ওয়েবডেস্ক: গত বছরের শেষে হঠাৎ করেই এক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নাকি তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন এবং মুখ বন্ধ রাখার জন্য নাকি তাঁকে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ডলার অর্থও দিয়েছিলেন। ক্যাথরিন মায়োরগা নাম্নী ওই মহিলার এহেন অভিযোগের পর উত্তাল হয়েছিল গোটা ফুটবলবিশ্ব। যদিও প্রথম থেকেই ধর্ষণের অভিযোগ নস্যাৎ করে আসছিলেন রন ও তাঁর আইনজীবী। তবে এবার অভিযোগকারিণীকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন, তা এক কথায় স্বীকার করে নিলেন সিআর সেভেন।

সম্প্রতি এই মামলার একটি লিগাল পেপারওয়ার্ক সামনে এসেছে। সেই নথি অনুযায়ী, রোনাল্ডো নাকি অভিযোগকারিণীকে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ডলার অর্থ দিয়েছিলেন এবং উভয়পক্ষই এই ঘটনাটি গোপন রাখার অঙ্গীকার করেছিলেন। যদিও রোনাল্ডোর আইনজীবী জানিয়েছেন ওই অর্থ রোনাল্ডো দিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু তার মানে এই নয় রন ওই মহিলাকে ধর্ষণ করেছিলেন। রোনাল্ডো ও ওই মহিলার মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছিল দুজনের সম্মতিতেই এবং এই ঘটনা যাতে আর কেউ না জানে সেই জন্যই ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন রোনাল্ডো।

প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষ দিকে মার্কিন নাগরিক ক্যাথরিন মায়োরগা রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ আনেন। জার্মান পত্রিকা ‘দের স্পিগেল’-এ প্রকাশিত তাঁর সেই সাক্ষাৎকার নাড়িয়ে দেয় গোটা ফুটবল বিশ্বকে। যদিও এই সব অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং ‘সিআর ৭’।

তবে পর্তুগালের এক সংবাদপত্র ‘কোরেও দে মানহা’ রোনাল্ডোর এই দাবি খারিজ করে দেয়। এক রিপোর্টে তাঁরা দাবি করে যে, ২০০৯ সালে ওই ঘটনার জন্য নাকি ক্যাথরিনকে রোনাল্ডো নিজে টাকা দিয়েছিলেন। আর সেই টাকা দিতে রোনাল্ডোর উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ কর্তারা। কারণ হিসাবে ওই পত্রিকার দাবি, সেই সময় রোনাল্ডো রিয়ালে খেলতেন। তাই ওই ঘটনা প্রকাশ্যে এলে ক্ষতিগ্রস্থ হত রিয়ালের ভাবমূর্তি। তাই রিয়াল কর্তারা রোনাল্ডোকে টাকা দিতে চাপ দিয়েছিলেন।

অবশ্য ওই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু ক্যাথরিন ধর্ষণের অভিযোগ করেননি। করেছিলেন অনেক পরে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। কিন্তু অতদিন পরে আর ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। পাওয়া যায়নি কোনও ভিডিও প্রমাণও। ফলে রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে কোনও রকম ক্রিমিনাল চার্জ গঠন করা হয়নি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here