ডেস্ক: ভাগাড়ের পচা মাংস কাণ্ডের জেরে আপাতত রীতিমতো ভয়ে রয়েছে শহর কলকাতার খাদ্যপ্রিয় বাঙালি। এই কাণ্ডে এবার কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের হওয়ার উপক্রম। পচা মাংসের কাণ্ডে এবার মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে উঠে এসেছে, ভাগাড়ের পচা মাংস কেবল এ রাজ্যে বা শহরে নয়। এমনকি ভিনদেশেও রপ্তানি করা হতো পচা গলা এই মাংস। ভাগাড়কাণ্ডে মূল অভিযুক্তদের বৃহস্পতিবার জেরা করে এই তথ্য সামনে এনেছে বজবজ থানার পুলিশ।

কিন্তু কীভাবে চলতো এতো বড় চক্র? ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশগুলিতে সস্তায় ‘ফ্রোজেন মিট’ বা প্যাকেজ মাংসের চাহিদা প্রচুর। কলকাতার খোলা বাজারে রেস্তোরাঁগুলিতে অল্প সংখ্যক পচা মাংস সাপ্লাই দেওয়ার পর তার সিংহভাগই প্যাকিং করে ‘প্রসেসড মিট’ হিসাবে পৌঁছে যেত। কলকাতার বাজারে এই প্যাকেজড মাংসের চাহিদা না থাকায় মূলত বিদেশে রপ্তানি করা হতো এগুলি। আর সে দেশের মানুষও কিন্তু না জেনে বুঝেই দিব্বি খেতেন সেই মাংস।

অন্যদিকে, পচা মাংস কাণ্ডে আজ ফের পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে আরেকটি চক্র। এদিন সকালে দমদম আড়াই নম্বর গেট এলাকায় ৭০ কেজি পচা মাংস সহ হাতেনাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে এক ব্যক্তি। ওয়াইএফসি নামের একটি রেস্তোরাঁয় এই মাংসগুলি সাপ্লাই করতে সে নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে ধরে নিউটাউন এলাকায় একটি খামারের সন্ধান পেয়ে সেখানে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেই খামারে গিয়ে দেখা যায় ডিপ ফ্রিজারে মজুত করা রয়েছে কয়েকশো কেজি পচা মাংস। তারপরই ওই খামারকে সিল করে দেয় পুলিশ।

কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের ফলে উঠে এসেছে যে ওই খামারের মালিক বসিরহাটের বাসিন্দা। ওই খামারের থেকে বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় সাপ্লাই হওয়া মাংস খেয়ে বিগত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পচা মাংস বহনকারী ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওয়াইএফসি নামের ওই রেস্টুরেন্টের মালিককেও জেরা করছে পুলিশ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here