মহানগর ওয়েবডেস্ক: দলের অন্দরেই অস্বাভাবিক চাপের মুখে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনের সামনে তৃণমূলের কর্মী সংগঠনের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি নিয়ে চরম আকারে নিল সংঘাত। উপর থেকে এই ঝঞ্ঝাটে সামিল হয়ে এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রীর নামে বিষোদগার করে ফের দলের কুনজরে পড়েছেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। যেভাবে সংবাদ মাধ্যমের সামনেই বিদ্যুৎ মন্ত্রীর নামে তুলোধনা করেছেন, তাতে আসন্ন সময়ে তাঁকে সাসপেন্ড করা হলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। এমনটাই খবর তৃণমূল সূত্রে।

এদিন কর্মচারিদের প্রাপ্য ডিএ দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাজ্য বিদ্যুৎ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সব্যসাচী দত্ত কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ-র দাবিতে ধর্নায় বসেন বিদ্যুৎ দফতরের অফিসের ভিতরেই। পাল্লা দিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতে থাকেন তিনি। খোদ শাসকদলে থেকেও সরকারের বিরুদ্ধে এহেন অবস্থান যে তাঁকে বড়সড় বিপদে ফেলে দিতে পারে তা ভালভাবেই জানেন সব্যসাচী। এরপরও ক্রমাগত যেভাবে একের পর এক তোপ তিনি দেগে চলেছেন, তাতে যে কোনও মুহূর্তে সব্যসাচীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হতে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের খবর, যেভাবে সব্যসাচী ক্রমশ সীমা ছাড়াচ্ছেন, তা নজরে পড়েছে মমতারও। আর সেই কারণেই বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাট বিধানসভার বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে যে সময়ে ডিএ এবং পে কমিশন নিয়ে রাজ্য সরকার সমূহ চাপে, তখন সেই ইস্যুতেই আন্দোলনে সামিল হওয়া দলের জন্য আত্মঘাতী হামলার সমক্ষক। তবে মমতা যে সব্যসাচীর উপর ক্ষেপে রয়েছেন সেই ইঙ্গিতও একাধিকবার দিয়েছেন। বুঝিয়েছেন, কেউ চলে যেতে চাইলে যেতে পারে। তাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি নন। কিন্তু সব্যসাচী যা শুরু করেছেন, তাতে হয়তো তিনি তাড়া খেয়েই খান্ত হবেন। মনে করছেন তৃণমূলের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here