মহানগর ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের রাজপাট নিয়ে রবিবার দিনভর নাটক চলার পর মুখ্যমন্ত্রী দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করে তার মসনদ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। রাত আড়াইটের সময় একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে অশোক গেহলটের তরফ থেকে বলা হয় ১০৯ জন বিধায়কের সমর্থন তার দিকেই রয়েছে, ফলে আপাতত তিনি শচিন তিরে বিদ্ধ হচ্ছেন না। ২০০ সদস্যের বিধানসভায় সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য ১০১ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন।

জয়পুরে অশোক গেহলটের বাসভবনে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে মধ্যরাতের বৈঠকের পর রাজস্থান কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অবিনাশ পান্ডে সংবাদিক বৈঠকে জানান, ”১০৯ জন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন জানিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। আরও কিছু দলীয় বিধায়কের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে যারা সমর্থনপত্রে আগামীকাল সকালেই স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন।”

দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে সনিয়া গান্ধীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি দল, যার মধ্যে রয়েছেন রনদীপ সুরজওয়ালা, অজয় মাকেন ও অবিনাশ পান্ডে পরিস্থিতি সামাল দিতে জয়পুর পৌঁছে গেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হুইপ জারি থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের ডাকা বৈঠকে শচিন পাইলট উপস্থিত থাকেননি। তিনি দাবি করেছেন, তার সঙ্গে ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে যারা শাসকদলের থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে রাজস্থানেও মধ্যপ্রদেশের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

ইতিমধ্যেই শচিন পাইলট তার একান্ত অনুগত কয়েকজন বিধায়ক নিয়ে দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন। রাজধানীর কোথায় তিনি রয়েছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু না জানা গেলেও সূত্রের খবর আজ বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে পারেন শচিন। এখনও পর্যন্ত সনিয়া বা রাহুল কেউই শচিনের সঙ্গে দেখা করেননি বলেই জানা গিয়েছে।

একই ভাবে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সিন্ধিয়ার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃত হন বলে জানা গিয়েছিল। তারই পরিণামে মধ্যপ্রদেশের সরকার কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়। সেই একই ঘটনা এবারও সনিয়া ও রাহুল ঘটাবেন কিনা গতকাল রাত পর্যন্ত সেটা স্পষ্ট হয়নি।

বর্তমানে রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ১০৭। এর সঙ্গে ১২ জন নির্দল ও পাঁচজন অন্যান্য দলের বিধায়কের সমর্থন রয়েছে গেহলট সরকারের প্রতি। অন্যদিকে বিজেপি’র আসন সংখ্যা ৭৫। ফলে শচিনের দাবি অনুযায়ী তার ঝুলিতে থাকা ৩০ জন বিধায়কের  সমর্থন প্রত্যাহারেই সরকারের পতন হতে পারে। সিপি(আই)এম, রাষ্ট্রীয় লোকদল, ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি’র বিধায়করা জানিয়েছেন গেহলটের সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজেপি’কে সমর্থন করার জন্য ইতিমধ্যেই বিরোধী দল থেকে তাদের কাছে ১৫ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

উপ মুখ্যমন্ত্রী শচিন পাইলটের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের সম্পর্ক প্রথম থেকেই তিক্ত ছিল।  সম্প্রতি রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এই অভিযোগে গেহলট একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই তদন্তের কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশের থেকে শচিন পাইলটের কাছে সমন পাঠানো হয়। এই ঘটনার পরই উপ মুখ্যমন্ত্রীর ধৈর্যের সমস্ত বাঁধ ভেঙে পড়ে। তিনি এক বর্ষীয়ান সাংবাদিককে জানান, ”কেউ তার নিজের বাড়ি ছাড়তে চায় না। কিন্তু এতটা অপদস্থ হয়ে কোথাও থাকা যায় না। আমার সমর্থক ও বিধায়করা অত্যন্ত আহত হয়েছে এবং আমাকে তাদের তাদের কথা শুনতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here