মহানগর ওয়েবডেস্ক: জমজমাট হয়ে উঠছে মরুরাজ্যের রাজনৈতিক নাটক। আজ সকালেই গুজরাত থেকে ছ’জন বিজেপি বিধায়কের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনার পরই জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী শচিন পাইলট তার দলের সঙ্গে সমঝোতা সূত্র খুঁজতে দলের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।

রাজস্থানের দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল শীর্ষস্থানীয় দুই কংগ্রেস নেতা সূত্রে জানা গিয়েছে পাইলট ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের দুই বরিষ্ঠ নেতা আহমেদ প্যাটেল এবং কেসি ভেনুগোপালের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করার মধ্যে দিয়ে প্রকৃত অর্থে বিদ্রোহী নেতা তার নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন বলেই দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী এই সাক্ষাৎকার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কিছু না জানা গেলেও দলের একাংশ মনে মনে করছেন রাহুল–শচিনের ব্যক্তিগত স্তরে পুরনো সম্পর্কের রেশ ধরে প্রাক্তন সভাপতি এই সাক্ষাৎকারে সম্মতি জানাতেই পারেন। যদিও এমন কোনও সম্ভাবনার কথা পাইলট নাকচ করে দিলেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি অস্বীকার করেন।

আইটিসি গ্র্যান্ড ভারত হোটেল ছেড়ে পাইলট শিবিরের বিধায়করা আপাতত ফরিদাবাদ থেকে মানেসরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। তাদেরই মধ্যে একজন এই সম্ভাবনার প্রসঙ্গে বলেন, কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই বিদ্রোহী বিধায়কদের দলে ফেরানো হবে না। প্রাথমিক ভাবে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের কার্য পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেই বিদ্রোহীরা মুখ খুলেছিলেন।

পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তের কথা মাথায় রেখেই কংগ্রেসের এক নেতা জানিয়েছেন, বিধানসভা অধিবেশনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট সরকারের আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এই অবস্থায় পাইলট শিবিরের বিধায়করা তাদের নিরাপত্তাহীনতা থেকে পাইলটকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতা সূত্র খুঁজে বার করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেছেন।

বিদ্রোহী বিধায়কদের রাজ্যস্তরে কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত জানার পরই পাইলট শিবিরে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। রাজস্থান কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ পান্ডে শচিন পাইলট ও তার অনুগামীদের দলে ফিরে আসার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য রাজীতিবিদদের হৃদয়ে মাঝে মধ্যে পাথরচাপা দিয়ে রাখতে হয়। অর্থাৎ তার বক্তব্য, যতই কঠিন সিদ্ধান্ত হোক শচিন পাইলটের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক জোড়া লাগার আর কোনও সম্ভাবনা নেই। যেহেতু রাজনীতিতে শেষ সিদ্ধান্ত বলে কিছু হয় না,  সুতরাং রাজীব–শচিন বৈঠক আদৌ হতে পারে কিনা সেটি নিয়েই আপাতত জল্পনা চরমে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here