https://bengali.mahanagar24x7.com/saffron-brigade-has-adopted-new-definition-of-patriotism-and-nationalism/

সব্যসাচী বশিষ্ঠ: তা হলে আপনার-আমার আর কোনও চিন্তা নেই‍। সীমান্ত সামলানোর জন্য ‘গদর’ খ্যাত সানি দেওল এসে গিয়েছেন, তাঁর আড়াই মণের বাহু থাকতে আর রাফায়েলের কী দরকার? আর যদি-বা ভুল করে পাকিস্তান এফ-১৬ পাঠিয়েই দেয়, তা হলে তো সাধ্বী প্রজ্ঞার অভিশাপই আছে। যে অভিশাপ হেমন্ত কারকারের মতো ডাকসাইটে পুলিশ অফিসারকে ফুঁড়ে দিতে পারে, তার সামনে অন্য কী-ই বা টিঁকতে পারে?

সত্যি, এবারের নির্বাচনে দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদের নতুন নতুন সংজ্ঞা নিরূপণ করছে গেরুয়া শিবির। ২০০৮-এর ২৬ নভেম্বর তাজ হোটেলে পাক-জঙ্গিদের হামলায় মুম্বই পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখার যে দাপুটে অফিসার মারা গেলেন, তিনিই হয়ে দাঁড়ালেন আপাতত হিন্দুত্ববাদীদের সবচেয়ে বড় শত্রু। হেমন্ত কারকারে কতটা খারাপ মানুষ ছিলেন, জেলে সাধ্বী প্রজ্ঞাকে কতটা অত্যাচার করেছিলেন, তাই নিয়ে নিত্যনতুন গল্পকাহিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। সব দেখেশুনে টেলিভিশনে বিজেপির এক মুখপাত্রকে সুধিয়ে ফেলেছিলাম, ‘তা হলে হেমন্ত কারকারে আপনাদের কাছে শহিদ না দেশদ্রোহী?’ তাঁর উত্তরটা আরও চমকে দেওয়ার মতো। ‘একজন, যিনি নিজের পাড়ায় সবাইকে খুব অত্যাচার করতেন, তিনি যদি অন্য পাড়ায় গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে মারা যান, তা হলে আমরা তাঁর কুকীর্তির কথা বলতে পারব না?’
যদি বিজেপি নেতাদের টেলিভিশনে দেওয়া এই যুক্তি মেনে নিতে হয়, যদি স্বীকার করে নিতে হয় ২৬/১১-তে নিহত পুলিশ অফিসার হেমন্ত কারকারের জীবনের একটা অন্ধকার দিক ছিল, তা হলে কাশ্মীরিদের ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে অভিযোগের কী জবাব দেব?

কাশ্মীরিদেরও তো এটাই বক্তব্য। ভারতীয় সেনাবাহিনী অন্য যেখানে যাই করুক, তাঁদের উপত্যকায় এলেই বৈরী আচরণ করে। কাশ্মীরিদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে এতদিন তো আমরা ‘দেশদ্রোহিতা’ বলেই জেনে এসেছি। কারণ, যাঁরা উর্দি গায়ে চাপিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করেন, শহিদ হন, তাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ করা যায় নাকি? কিন্তু সাধ্বী প্রজ্ঞা ভোপালে প্রার্থী হয়েই তো উলটপুরাণ লিখলেন। তিনি তো অক্লেশে ‘শহিদ’ হেমন্ত কারকারেকে অত্যাচারী আখ্যা দিয়ে জানিয়ে দিলেন, উর্দিধারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেই ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা নাও পাওয়া যেতে পারে, ‘দেশপ্রেমী’ হয়ে ফুলমালাও পাওয়া যেতে পারে। আসলে, এই যে নতুন রামায়ণ বিজেপির নেতানেত্রীরা তৈরি করছেন, তা পড়লে পরে সুকুমার রায়ও আর ‘হযবরল’ লেখার সাহস পেতেন না।

দেশের ৫৯ বছরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ৬২ বছরের নায়ক সানি দেওলকে দলে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এমন ‘তরুণ’ নায়ককে পেয়ে বিজেপি কতটা উজ্জীবিত। হযবরল-তে ছিল, বয়সের নাকি একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর থেকে উল্টো গুনতি শুরু হয়। তা হলে কি সানি দেওলের বয়স উল্টো গুনতি করে মাননীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁকে নিজের থেকে ‘তরুণতর’ ভেবেছিলেন? বা এমনটাও হতে পারে, বলিউডের এককালের ‘অ্যাকশন হিরো’-কে দলে পাওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে এমনই ‘ঘায়েল’ করে দিয়েছিল, যে তিনিও সব হিসেবনিকেশ গুলিয়ে ফেলেছিলেন? বললাম না, সুকুমার রায়ের ‘ননসেন্স রাইম’কেও হার মানিয়ে দিচ্ছে গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন বক্তব্য। যদি গো-মূত্র খেয়েই সাধ্বী প্রজ্ঞা তাঁর ক্যানসার সারিয়ে ফেলে থাকেন, তবে সেই একই ওষুধ তিনি প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং গোয়ার প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পরিক্কারের ক্যানসার চিকিৎসায় দিলেন না কেন? এই নতুন রামায়ণে কে যে রাম, কে রাবণ আর কোন বাণে কার মরণ হচ্ছে, তা সত্যিই বোঝা মুশকিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here