রফিক আনোয়ার: লোকসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তখনো ভোটগ্রহণ পর্ব চলছেl বহু কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইন। হাতে পুরো হিসাব আসেনি। দিল্লিতে বিজেপির এক নেতা দাবি করে বসলেন, যে ৯১টি আসনে ভোট হয়েছে, তাতে আরও চারটি আসন বাড়িয়ে নিচ্ছে দল। ২০১৪ সালে বিজেপি এই ৯১টি আসনের মধ্যে জিতেছিল ৩২টিতে। এবার দাবি ৩৬টি। এটি ১১ এপ্রিল অর্থাৎ গত শুক্রবারের ঘটনা। এর একদিনের মধ্যেই বিজেপি শিবিরের চিত্রপট পাল্টে যায়। এনডিটিভি, এবিপি তেমনই জানায়। ওই দিন অনেক রাত পর্যন্ত জাগেন নেতারা। যে ২০টি রাজ্যে প্রথম দফার ভোট হয়েছে, সব জায়গা থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেন তারা। তার ভিত্তিতে এখন আর কোনো আসনের দাবি করছে না দল।

অন্যদিকে, গেরুয়া শিবির সূত্র, জানিয়ে দিয়েছে, প্রাথমিক লক্ষণ আদৌ বিজেপির পক্ষে স্বস্তির নয়। বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘অধিকাংশ রাজ্যে গত লোকসভার থেকে কম ভোট পড়েছে। গত ভোটে মনমোহন সিং সরকারকে সরিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমতায় আনার একটি তাগিদ ছিল মানুষের মধ্যে। মোদি-ঝড় ছিল গোটা দেশে। কিন্তু এবার তেমন কোনো ঝড় কোথাও দেখা যাচ্ছে না। মোদীকে পরাস্ত করতে হবে, এমন ভাবনাও নেই। তবে দেশজুড়ে মোদীর পক্ষে জোরালো হাওয়া না থাকায় স্থানীয় বিষয়গুলো বড় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জাত-পাতের অঙ্কও বড় ফ্যাক্টর।’ ‘বিজেপি ইনসাইডার’ বলে একটি টুইটার হ্যান্ডেল রয়েছে, যেটি সাধারণত বিজেপির অন্দরের খবর দেয় বলে সবখানে পরিচিত। শনিবার সকালে এই টুইটার থেকেই একটি টুইট করা হয়। যেখানে দলের অন্দর মহলের সমীক্ষা অনুযায়ী বলা হয়, ‘গোটা ভারতে বিজেপি ১৫০-১৬০টি আসনে নেমে আসবে। দলের সব চেয়ে বেশি লোকসান হবে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মহারাষ্ট্রে।’

কংগ্রেস ঠিক এই ভবিষ্যৎ বাণীটিই অনেক দিন ধরে করে আসছে। তাদের মতে, গত লোকসভা ভোটে বিজেপির একার জোরে পাওয়া ২৮২টি আসন থেকে এক ধাক্কায় শ’ খানেক কমে গেলে এনডিএর শরিকদের নিয়েও সরকার গড়তে পারবেন না নরেন্দ্র মোদী। কোনো মতে সরকার গড়ার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছতে পারলেও মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেবে না এনডিএ শরিকরাই। তবে বিজেপির সংখ্যা আরও কমবে বলেই আশা কংগ্রেসের। আর এই জায়গা থেকেই কংগ্রেসের বিশ্বাস, সরকার গড়বে বিরোধীরা মিলেই।

বিজেপি মানছে, প্রথম ধাপের ভোটে মায়াবতী-অখিলেশদের জোট অনেকটাই বাজি মেরেছে। অতীতে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে মেরুকরণ কাজ করত, এবার সেটিও করছে না। ফলে বিজেপিকেও এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, মেরুকরণের উগ্রতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন আছে বটে। তাই সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী যেখানেই প্রচার চালিয়েছেন, সেখানেই ‘হিন্দু-মুসলিম’ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হলো মোদীর জম্মুর ভাষণ। সেখানে তিনি সরাসারি না বলে একটু ঘুরিয়ে বলেন, মুফতি-আবদুল্লাদের দেশ ভাগ করতে দেব না। আসলে, নামকে সামনে রেখে মোদী ‘হিন্দু-মুসলিম’ মেরুকরণের রাজনীতিকে আরো চাঙ্গা করার চেষ্টায় ওইসব কথা বলছেন।

উল্লেখ্য, প্রথম দফায় সবমিলিয়ে ৬৯.৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ দফায় ১৮টি রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৯১টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। এই ৯১ কেন্দ্রে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ২৭৯ জন।

রামনবমীর ঠেলায় বাঙালির নিজের পার্বণ, খাস বাঙালিয়ানার উৎসব ‘পয়লা বৈশাখ’ পড়ে গেছে অবহেলার পর্যায়ে। আমাদের এই পশ্চিম বাংলায়। দক্ষিণ থেকে উত্তর – বাংলার শহর-নগর জয় শ্রীরাম স্লোগানে মুখর হয়েছে। অথচ কয়েক ঘন্টা পরই পয়লা বৈশাখ, কিন্তু তা নিয়ে কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা খুব একটা চোখে পড়ল না। তাই প্রশ্ন জাগে, আমরা কি নিজেদের রাজনীতি সর্বস্ব করে তুলেছি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here