ডেস্ক: বাবা অটোচালক। তার রোজগারে পরিবারে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন জুটে যায়। কিন্তু সেখান থেকে বক্সিং দুনিয়ায় নিজের মেয়েকে প্রতিষ্ঠা করার সাধ্য থাকে না। তবুও এত কঠিন বাস্তবের সামনে দাঁড়িয়েও কখনও মেয়ের স্বপ্নকে ভুলে যেতে দেন নি এই বাবা। তাই আজ মেয়ে সোনা জিতে বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে পেরেছে। কথা হচ্ছে, পঞ্জাবের পাতিয়ালার মেয়ে সন্দীপ কউরকে নিয়ে। তাঁর হাত ধরেই পোল্যান্ডের মাটিতে ভারতের তেরঙ্গা যেন গৌরবময় হয়ে আকাশে উড়ছিল। সিলেসিয়ান বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৫২ কেজি বিভাগে এই তরুণী বক্সার স্বর্ণপদক এনে শুধু দেশ নয় তাঁর বাবা সর্দার জশবীর সিংয়ের স্বপ্নও পূরণ করেছেন। পোল্যান্ডের কারোলিনা আপুস্কাকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন সন্দীপ।

পঞ্জাবের পাতিয়ালার হাসানপুর গ্রামের মেয়ে সন্দীপ। কিন্তু তাঁর এই সফলতা পাওয়ার রাস্তা মোটেই সহজ ছিল না। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে এই ১৬ বছর তরুণীকে। এই অল্প বয়সেই জীবনকে অনেক কাছ থেকে দেখেছেন সন্দীপ। তাই হয়তো ছোট থেকেই লড়ার খিদেটা তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে। সন্দীপের কাকা সিমরজিত সিং গ্রামের মধ্যে একটা ছোট্ট বক্সিং অ্যাকাডেমি তৈরি করেছে। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছে সন্দীপ।

সোনা জিতে উচ্ছ্বসিত সন্দীপ বলেন, “আমি আমার কাকার অ্যাকাডেমি দিয়েই বক্সিংয়ে হাতেখড়ি হয়েছে আমার। এভাবেই আস্তে আস্তে আমার আগ্রহটা বাড়তে থাকে। যখন আমার আট বছর বয়স, তখন আমি প্রথম হাতে বক্সিং গ্লাভস পড়ি ও আমার ট্রেনিং শুরু হয়।”” তবে গ্রামে মেয়েকে বক্সিং শেখানোর জন্য অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাঁর পরিবারকে। কিন্তু কোনও বাঁধাই আটকাতে পারে নি এই তরুণী বক্সারকে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here