ডেস্ক: হঠাৎই বিপর্যয়টা নেমে আসে ২০০৬ সালের জুলাইয়ে। অসমের গুয়াহাটিতে এক দুর্ঘটনায় স্পাইনাল কর্ড ভেঙে যায় পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জীব বর্ধনের। স্বাভাবতই পঙ্গুত্বের শিকার হন সঞ্জীব। চিকিৎসা যে করাননি তা নয়, দীর্ঘদিন ধরে বহু হাসপাতালে ঘুরে ঘুরেও ফল বিশেষ মেলেনি। শেষে বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানান ওই ইঞ্জিনিয়র।

সম্প্রতি, সুপ্রিমকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করা হয়েছে ভারতে। দীর্ঘ ১২ বছর পর ঠিক এই সময়েই মৃত্যু নয়, এক নতুন জীবনের স্বাদ পেলেন সঞ্জীব। দুর্ঘটনার পর ২০০৬ সালে প্রথম অস্ত্রপচার হয় সঞ্জীবের। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি। ২০১০ সালে জানা যায়, হিপ জয়েন্ট সরে গিয়েছে তাঁর, ফের হয় অস্ত্রপচার কিন্তু ব্যর্থ হয় সব চেষ্টাই। বাধ্য হয়ে শেষে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্বচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন সঞ্জীব। তবে স্বেচ্ছামৃত্যু নয়, মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য অর্থসাহায্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। কিছুটা মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ও বাকিটা চাঁদা তুলে তাঁকে সাহায্য করেন তাঁর বন্ধুরা। শেষে নতুন করে তাঁকে ভর্তি করা হয় পার্কসার্কাসের এক হাসপাতালে। সেখানেই জীবনের মোড় ঘোরে সঞ্জীবের।

চিকিৎসক এমএম ঘটকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে সাড়া দিতে থাকেন সঞ্জীব। দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্ব কাটিয়ে ধীরে ধীরে ফেরে হাত পা নাড়ানোর ক্ষমতা। দীর্ঘ ১২ বছর অচল অবস্থায় পড়ে থাকা সঞ্জীব আপাতত সুস্থ হয়ে বাড়ির পথে। একদিকে যখন স্বেচ্ছামৃত্যুতে সম্মতি জানিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছা মৃত্যুর অবস্থান থেকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসা সঞ্জীবের বক্তব্য, ‘লড়াইটাই আসল। সেটা করে যাওয়া উচিৎ। স্বেচ্ছা মৃত্যু নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের এই যুগান্তকারী রায়ের পর সঞ্জীবের দাবি, এই রায় নতুন করে ভেবে দেখা উচিৎ। কারন জীবন যুদ্ধে ভেঙে পড়া সঞ্জীব অনেকেই আছেন। তাদেরও ফিরে আসা সম্ভব। সঞ্জীবের এই নতুন জীবনে ফিরে আসা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিঃসন্দেহে এক অন্য নজির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here