news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি’র হুঁশিয়ারি মন্তব্যে ক্ষিপ্ত সৌদি আরবকে শান্ত করতে সেদেশে সেনা প্রধান কামার আহমেদ বাজওয়াকে পাঠাচ্ছে ইমরান সরকার। একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে বিদেশমন্ত্রী সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ইসলামিক দেশের সংগঠন (ওআইসি)–এর উদ্দেশে প্রায় হুমকির সুরেই বলেন ‘’যদি আপনারা বৈঠক না ডাকেন তাহলে আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বলতে বাধ্য হব সেই সব ইসলমিক দেশগুলিকে নিয়ে একটি বৈঠক ডাকতে যারা কাশ্মীর ইস্যুতে এবং কাশ্মীরের নিপীড়িত মানুষের সমর্থনে আমাদের পাশে রয়েছে।‘’

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক মন্ত্রীর এই বার্তার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে যে তৎপরতা দেখিয়েছে তার ফলে এটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে বিদেশমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির মন্তব্যটি নেহাত আলটপকা ছিল না। মন্ত্রীর মন্তব্যটি যে কূটনৈতিক রীতিনীতি বিরুদ্ধ এমন সমালোচনাকেও কার্যত নস্যাৎ করে দেওয়া হয় মন্ত্রকের তরফে।

এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বিদেশমন্ত্রী কুরেশি দু’বার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেও বাতিল করেছেন। শুধু সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে ব্যাখ্যাদান যে দুই দেশের সম্পর্ককে পুরনো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয় সে কথা উপলব্ধি করেই দু’বার এই সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বাজওয়ার সৌদি আরব সফর সম্পর্কে সরকারি ভাবে কিছু না জানানো হলেও সেনা প্রধান পাকিস্তানে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত অ্যাডমিরাল নওয়াফ বিন সইদ আল–মালিকি’র সঙ্গে দেখা করে দুই দেশের ‘’সাধারণ স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং  দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক’’ নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানানো হয়েছে, ইসলামাবাদের আশা এই সাক্ষাৎকারের মধ্যে দিয়ে দু’দেশের ভুল বোঝাবুঝির খুব দ্রুত অবসান ঘটবে।

২০১৮ সালে পাকিস্তানের ধসে যাওয়া অর্থনীতিকে সচল রাখতে ইমরানের খানের অনুরোধে সৌদি আরব ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়। এই ঋণ প্যাকেজের মধ্যে ছিল ৩০০ কোটি ডলার ঋণ এবং ৩২০ কোটি ডলারের তেল ধারে কেনার সুবিধা। পরবর্তী কালে ধারে তেল কেনার সুবিধাটি প্রত্যাহার করে নিয়ে সৌদি আরব পাকিস্তানকে দেওয়া ঋণের পুরো টাকা ফেরত চায়। পাকিস্তান সরকার তাদের বন্ধু রাষ্ট্র চিনের কাছ থেকে ধার করে নিয়ে এসে সৌদি আরবকে ১০০ কোটি ডলার ফেরত দেয়। এবার কুরেশি’র মন্তব্যের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক আবার জোড়া লাগবে কিনা সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here