Home Featured শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ, যুবমোর্চার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সৌমিত্র খাঁ

শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ, যুবমোর্চার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সৌমিত্র খাঁ

0
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ, যুবমোর্চার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সৌমিত্র খাঁ
Parul

মহানগর ডেস্ক: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় বাংলার চার সাংসদের সংযুক্তির দিনেই শুভেন্দু অধিকারী ও দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমন করে রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বুধবার ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি ফেসবুক লাইভে এসে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী,রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও একুশে রাজ্য বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীর বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণে বিদ্ধ করেন তিনি।

ফেসবুকে তার সমর্থকদের বার্তা দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “বর্তমানে রাজ্য বিজেপি একমুখী হয়ে পড়েছে। শুধু একটি মানুষ ও একটি জেলাকে কেন্দ্র করেই দলটা চলছে। বর্তমানে যিনি এসেছেন(শুভেন্দু অধিকারী) তিনি শুধুই নিজেকে জাহির করছেন। দলকে তুলে ধরার বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।” এখানেই থেমে থাকেন নি তিনি। বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই তাঁর বক্তব্য, “ক্রমাগত দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভুল বোঝাচ্ছেন তিনি। যার ফলে রাজ্য বিজেপির অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।” নিজের সাথে শুভেন্দুর তুলনা টেনে তিনি বলেন  “আমি একজন সক্রিয় সাংসদ হিসেবে সবার প্রথমে বিজেপিতে এসেছিলাম। আর উনি ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে আড়াইশো জন মেম্বার নিয়ে এসে নিজেকে বিশাল বড় নেতা ভেবে ফেলেছেন। যাদের নিয়ে এসেছেন তারা সবাই চোর-চিটিংবাজ”

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এদিন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকেও কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। তাঁর মতে, “ওনাকে(দিলীপ ঘোষ) কিছু বলে লাভ নেই। উনি অর্ধেক কথা বোঝেন ও অর্ধেক কথা বোঝেন না।” অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন নির্বাচনী বিশেষ পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীর প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, ” আমি ওনাকে(কৈলাশ বিজয়বর্গীয়) নির্বাচনের সময় বলেছিলাম যে উনি ভুল করছেন। আর এই ধৃষ্টতা দেখানোর জন্য আমাকে সেই সময় শাস্তি পেতে হয়েছিল।” তাঁর আরো অভিযোগ শুভেন্দুর নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবার জন্যই রাজ্য বিজেপিতে অনেকে সক্রিয় হতে পারছেন না। রাজ্যে দল যেভাবে চলার কথা সেভাবে চলছেনা।

যদিও বিজেপি ত্যাগের ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি বিষ্ণুপুরের এই বিজেপি নেতা। তাঁর আস্থা এখনো প্রধানমন্ত্রীর ওপরেই আছে তা স্পষ্ট করেন তিনি। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দিনেই রাজ্যের এরকম একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে যে বিভিন্ন স্তরে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে তা আবারও প্রকাশ পেল। যদিও সৌমিত্র জানিয়েছেন যে বাংলার চার মন্ত্রীর সংযুক্তিতে তিনি খুশি। কিন্তু এই নিয়ে যে আগামীদিনে অনেকের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।সেই আশঙ্কা এখনই সম্পূর্ণ রূপে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here