ভরদুপুরে মহানগরীর রাস্তায় শ্লীলতাহানি, ১০০ ডায়াল করতেই হাতেনাতে পাকড়াও অভিযুক্ত

0
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুপুর প্রায় ১টা বেজে ১০ মিনিট। বেজে উঠল লালবাজার কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন। চরম ভয়ার্ত ও কম্পিত কণ্ঠে এক মহিলা জানান, ভরদুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় এক বিকৃত মস্তিষ্কের লালসার শিকার হতে চলেছেন তিনি। অবিলম্বে পুলিশের সাহায্য চান ঐ অসহায় নারী কণ্ঠ। এরপর ঠিক কী ঘটতে চলেছে তা আঁচ করতে পেরেই আর বিন্দুমাত্র দেরি করেননি লালবাজারের অফিসারেরা।

ঘটনাস্থল শহরের কোন অলিগলি বা শহরতলির এলাকা নয়, মহানগরীর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিট থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে, ৫৭,বি মির্জা গালিব স্ট্রিট। অভিযোগকারিণীর থেকে লোকেশন জানা মাত্রই দ্রুত খবর দেওয়া হয় পার্ক স্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণি থানায়। বিষয়টি জানানো হয় ওই এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ অফিসার ও টহলরত আধিকারিককেও। লালবাজারের তথ্য পাওয়া মাত্রই দ্রুত বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন খোদ পার্ক স্ট্রিট থানার ওসি এবং শেক্সপিয়ার সরণি থানার ওসি। মুহূর্তের মধ্যেই পৌঁছে যান কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিক ও টহলরত ভ্যানও। অভিযোগকারিনী ওই মহিলাকে চিহ্নিত করে দ্রুত উদ্ধার করা হয় তাঁকে। এরপরেই হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় অভিযুক্তকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃত বছর বত্রিশের মহম্মদ সাদিস কাছাকাছি এলাকারই ফুটপাথে থাকত। জেরায় সে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। এরপর অভিযোগকারিণী যুবতীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃত মহম্মদ সাদিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪,২৫৪-এ, ৫০৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

সাম্প্রতিক কালে শহর কলকাতার রাস্তায় দিনে বা রাতে একাধিক ঘটনার জেরে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠে গিয়েছে নানান প্রশ্ন। সাধারণ মানুষতো দূর অস্ত, বিকৃত লালসা বা অস্বাভাবিক মানসিকতা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সেলিব্রিটিরাও। তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে, প্রায় প্রতিটি ঘটনাতেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে কলকাতা পুলিশকে। কোথাও লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা না করে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করেছে পুলিশ, আবার কোথাও ফোন পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের হাতেনাতে পাকড়াও করেছেন আধিকারিকরা। ৫৭,বি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনাটিও যার অন্যতম উদাহরণ বলে দাবি লালবাজারের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here