মহানগর ওয়েবডেস্ক: ২০০৯ সালে তহলকা পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইনজীবী তথা সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ জানিয়েছিলেন অতীতের ১৬ জন প্রধান বিচারপতির অর্ধেকই ছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত। তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করে। পরে আইনজীবী তার করা এই মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেও আদালত জানিয়ে দেয় এই ‘দুঃখপ্রকাশ’–এর জন্য মামলা প্রত্যাহার করা হবে না। বিচারপতি অরুণ মিশ্র’র নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৭ অগস্ট।

বেঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচারপতিকে দুর্নীতিগ্রস্থ বলার অর্থই হল আদালত অবমাননা সুতরাং এই মামলার শুনানি হওয়া প্রয়োজন। গত ৪ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে রুদ্ধদ্বার কক্ষে এই মামলার শুনানির পর আদালত মামলা চালানোর রায় দেয়। প্রশান্ত ভূষণ এবং তৎকালীন তহলকা পত্রিকার সম্পাদক তরুণ তেজপাল একই মন্তব্য করেছিলেন।

বেঞ্চের তরফে বলা হয়, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবমাননার মধ্যবর্তী বিভাজন অত্যন্ত সূক্ষ। বাক স্বাধীনতা ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে আদালতের সম্মান রক্ষার মধ্যে একটি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান খুঁজে বের করাই বিচারকদের উদ্দেশ্য বলে জানায় বেঞ্চ। প্রশান্ত ভূষণ তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, দূর্নীতিগ্রস্ত মন্তব্যের মধ্যে তিনি কোনও আর্থিক দুর্নীতির প্রতি ইঙ্গিত করেননি, যথার্থতা’র অভাবের কথা বোঝাতে চেয়েছেন । যদি তার বক্তব্যের জন্য বিচারপতি বা তাদের পরিবারের আবেগ আহত হয়ে থাকে তাহলে তিনি তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ  করছেন।

২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে শীর্ষ আদালত তহেলকা পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের জন্য আদালত অবমাননার দায়ে প্রশান্ত ভূষণ ও  তরুণ তেজপালকে নোটিশ পাঠায়। তরুণ তেজপাল অবশ্য সরাসরি ক্ষমা চেয়ে নেন। ২২ জুলাই সেই একই বেঞ্চ আবার প্রশান্ত ভূষণের করা দু’টি টুইট নিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে অসম্মানিত করার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে। সেই প্রসঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন করে আইনজীবী জানান, মতামত যতই চাঁছাছোলা, আপত্তিকর বা অস্বস্তিকর হোক তা কখনওই আদালত অবমাননা হিসেবে গন্য করা যায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here