নিজস্ব প্রতিবেদক, বসিরহাট: সমাজ গড়ার কারিগরই কালিমালিপ্ত! শিক্ষিকাদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তো ছিলই, এবার ছাত্রীদেরও কুরুচিকর প্রস্তাব এবং শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠল বসিরহাটের মধ্যমপুর গুলাইচন্ডী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু অভিযোগ ওঠা নয়, ছাত্রীদের অভিভাবকদের বিক্ষোভ-প্রতিবাদের পর গুলাইচন্ডী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আসিক ইকবাল মন্ডলকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমপুর গুলাইচন্ডী হাইস্কুলটি কো-এড এবং মোট পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় দেড়শো। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসিক ইকবাল মন্ডল ছাত্রীদের পড়ানোর বাহানা করে তাদের কাছে ডেকে শ্লীলতাহানি করতেন বলে অভিযোগ। অনেক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শুধু তাই নয়, আসিক ইকবাল স্কুলের শিক্ষিকাদেরও কুপ্রস্তাব দিতেন এবং কুরুচিকর এসএমএস পাঠাতেন বলে অভিযোগ। অশ্লীল গালিগালাজ শোনার ভয়ে কেউ এর প্রতিবাদ জানাতে পারত না। তবে বৃহস্পতিবার ইকবাল এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং ছাত্রীটি প্রতিবাদ করলে তাঁকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপরই স্কুলের সমস্ত ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষিকারাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারপর বৃহস্পতিবার বিকালে স্কুল ছুটির পর ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকেরা তাদের নিতে এলে তাঁরাও ঘটনাটি জানতে পারেন। তখন সমস্ত অভিভাবক-অভিভাবিকা মিলিতভাবে প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবিতে স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়েই বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বসিরহাট থানার আইসি প্রেমা শীষ চট্টরাজ, বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস, জেলা পরিষদের সদস্য শাহানুর মন্ডল, বসিরহাট এক নম্বরের বিডিও তাপস কুন্ডুও স্কুলে ছুটে যান। তাঁদের কাছে প্রধান শিক্ষক আসিক ইকবালের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন বিক্ষোভকারী অভিভাবকেরা। সেই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই আসিক ইকবালকে গ্রেফতার করে তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

গুলাইচন্ডী হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকেরা তাঁদের অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষক আসিক ইকবালের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি যেভাবে শিক্ষক হয়ে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দিয়েছেন, তা সমগ্র শিক্ষক মহলের কাছে নিন্দনীয় বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিক ইকবাল। তাঁর দাবি, ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here