kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাল: বন্ধুর হাতে স্মার্টফোন ঘুরতে দেখেছিল সে। বড় আশ ছিল সেই ফোনেই নিজের প্রিয় একটি ভিডিও গেমস খেলার। কিন্তু বন্ধুর কাছ থেকে সেই ফোন বার বার চাইলেও তা একবারের জন্যই দিতে রাজি ছিল না সেই বন্ধুটি। তার জেরেই এবার ঘটে গেল রক্তারক্তি কাণ্ড। বার বার চেয়েও না পেয়ে সেই বন্ধুটি সটান ছুরি চালিয়ে দিল অপর বন্ধুটির গলায়। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার চন্দ্রকোনায়। যদিও আক্রান্ত কিশোরের পরিবারের দাবি ভিডিও গেমস খেলা নিয়ে নয়, স্মার্টফোন হাতাতেই গলায় ছুরি চালানোর ঘটনা ঘটেছে।

জানা গিয়েছে, কেশপুর থানার স্যেঁকাটি গ্রামের মলয় মান ও চন্দ্রকোনার আগড়াপাড়া গ্রামের সনাতন দোলই, দশম শ্রেণির ছাত্র। একই স্কুলে পড়ায় দুই জনের বন্ধুর সম্পর্ক ছিল। শনিবার দুপুর নাগাদ স্কুল ছুটির পর  চন্দ্রকোনার ঝাঁকরা লাগোয়া রাস্তার উপর সনাতন ধারালো ছুরির কোপ মারে মলয়ের গলাতে। রক্তাক্ত মলয়ের চিৎকারে ছুটে আসে স্থানীয়রা। আশঙ্কা জনক অবস্থায় মলয়কে ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় সনাতনকে। চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে সনাতনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে, মলয়ের স্মার্টফোনে একটি ভিডিও গেমস খেলতে চেয়েছিল সনাতন। ‘ফ্রি ফাইন’ নামের সেই ভিডিও গেম তুলনায় অপরিচিত হওয়ায় মলয় তার স্মার্টফোনে সেই গেম ইনস্টল করতে দিতে চাইনি। সনাতন বার বার তাকে বলেছিল সেই গেম ইনস্টল করে একবার খেলতে দিতে। কিন্তু মলয় রাজি হয়নি। শনিবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই বিষয় নিয়ে দুইজনের তর্ক বাধলে সনাতন তার পকেট থেকে ছুরি বার করে মলয়ের গলায় চালিয়ে দেয়। পুলিশ সনাতনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছে সে ওই ছুরি গ্রামেরই এক মেলা থেকে কিনেছিল।

যদিও মলয়ের বাবা নিলু মান দাবি করেছেন, ভিডিও গেমস খেলা নিয়ে নয়, স্মার্টফোন কেড়ে নেওয়ার জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। এদিকে চন্দ্রকোনা থানার ওসি প্রশান্ত পাঠক জানান, তাদের প্রাথমিক অনুমান মোবাইলে গেম খেলাকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ সবদিক থেকে এই ঘটনা খতিয়ে দেখছে। তিনি এটাও জানান যে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত লিখিত কোনও অভিযোগ হয়নি। সনাতনকে রবিবার পুলিশ মেদিনীপুর জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে হাজির করায়। বিচারক তাকে ডেবরা শিশু হোমে রাখার নির্দেশ দেন। সনাতনকে সেখানেই রাখা হয়েছে আপাতত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here