স্কুলছাত্রীর মা হওয়ার ঘটনায় শোরগোল মাথাভাঙায়! ছাত্রীর মা নাকি কিছুই জানেন না

0
9753
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার: ফেল করে গেল সবুজসাথি, ফেল করে গেল কন্যাশ্রী। দিনের শেষে কিন্তু জিতে গেল ‘প্রেম ভালবাসা জিন্দাবাদ।’ না কোন সিনেমার ডায়লগ নয়। নয় কোন নাটকীয় বক্তব্যও। নিজের ভালবাসাকে বুকে আঁকড়ে ধরে থেকে পৃথিবীতে নতুন প্রাণের জন্ম দিল ক্লাস নাইনের এক ছাত্রী।
হতে পারে সে নাবালিকা, হতে পারে সে অপরিণত। কিন্তু তবুও নিজের ভালবাসার চিহ্নকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে চায়নি। নিজের শরীরেই তিলে তিলে বড় করেছে নিজের সন্তানকে। যন্ত্রণা সহ্য করেই জন্ম দিয়েছে নিজের কন্যাসন্তানকে। ঘটনার জেরে শোরগোল পড়লেও পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে স্কুলে সবুজসাথি ও কন্যাশ্রী প্রকল্পের যথাযথ রূপায়ণ নিয়েও। প্রশ্ন উঠেছে ওই স্কুলছাত্রীর প্রেমিক এবং মেয়েটির মায়ের ভূমিকা নিয়েও। মেয়েটির মা এদিন দাবি করেছেন, তিনি নাকি কিছুই জানতেন না, মেয়ে যে গর্ভবতী তাও নাকি তিনি বুঝতে পারেননি!

সোমবার সকালে কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নবম শ্রেনীর ওই ছাত্রী এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। নাবালিকা ওই ছাত্রীর বাড়ি মাথাভাঙা-১ ব্লকের হাজরাহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হুড়কাদাঙ্গা গ্রামে। সে হাজরাহাট পাখিহাগা হাইস্কুলের ছাত্রী। জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে রোজ পাখিহাগা হাইস্কুলে যাওয়ার পথেই সংলগ্ন বড়দোলা এলাকার যুবক বিধান বর্মণের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই নাবালিকার। যুবকটির প্রতি আকর্ষিত হয়ে স্কুল কামাই করে তার সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করে সে। তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্কও। এরপর দুইজনেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নিয়মিত অসুরক্ষিত সহবাসের জেরে ওই নাবালিকা গর্বভবী হয়ে পড়ে। সেই খবর কানে যেতেই ভোল বদলায় বিধান। এরপর থেকেই ওই নাবালিকার থেকে দূরত্ব বাড়াতে থাকে সে। এখন ওই যুবক নাকি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে।

এদিকে এদিন মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালের কুমারী মায়ের কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার খবর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল হতেই অনেকেই হাসপাতালে এসে ভিড় জমান। তাদের অনেকেই দাবী করেন, এভাবে একটা নাবালিকা মেয়েকে বিপদে ফেলে দিয়ে কেউ পালিয়ে বাঁচতে পারে না। যেভাবেই হোক অভিযুক্ত ওই যুবককে খুঁজে বের করে ওই ছাত্রী ও তাদের সন্তানের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হোক। ওই ছাত্রীর মা এর মধ্যে আবার দাবি করেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। মেয়ে যে গর্ভবতী হয়েছে সেটাই বুঝতে পারি নি। পেটের ব্যাথার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করালাম। এখানে এসে ও সন্তানের জন্ম দিল। আমরা এখন কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না।’

হাসপাতাল সুপার দেবদ্বীপ ঘোষ ওই ঘটনার খবর জানিয়ে বলেন, ‘মা ও মেয়ে দুজনেই এখন সুস্থ রয়েছে। হাপাতালের আইনি সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তবে মাথাভাঙা থানা সুত্রে খবর এখন কোন রকম অভিযোগ জমা পড়েনি। তা সত্ত্বেও বিষযটি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here