farooq kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ২ বছরের আগে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমে গেল তিনবারের জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার৷ চলতি মাসের ১৪ তারিখ থেকে তিনি তাঁর শ্রীনগরের বাড়িতেই বন্দি হয়ে আছেন৷ মঙ্গলবার কাশ্মীরের মালিক প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামালা রুজু করেছে৷ তাছড়া প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে ২৭ টি অভিযোগ, ১৬ টি পুলিশ রিপোর্ট ও৩টি এফআইআর করেছে৷ যা পরিস্থিতি তাতে তাঁর মুক্তি পাওয়ার সম্ভবানা প্রায় নেই বললেই চলে৷ তাঁকে শাস্তি দিয়ে বিরোধীদের সহবৎ শেখাতে চায় সত্যপাল মালিক প্রশাসন৷ অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগ এর পেছনে আছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দাভোলের মস্তিষ্ক৷ বিরোধীদের আরও অভিযোগ, কাশ্মীরে গণতন্ত্রকে টুঁটি চেপে হত্যা করছে মোদী সরকার৷ এর আগে গৃহে অন্তরীন আর এক জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিয়াজ অভিযোগ করেছেন কাশ্মীরে কোনও গণতন্ত্র নেই৷ সেখানে রীতিমতো স্বৈরাচার চালাচ্ছে মোদী সরকার বলেও অভিযোগ করেন তিনি৷

৮১ বছরের প্রবীন ন্যাশনাল কনফারেন্সের শ্রীনগরের লোকসভার সাংসদ ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। শ্রীনগরের জেলাশাসক তাঁর বিরুদ্ধে এই ধারায় অভিযোগ আনেন। অভিযোগে নথিভূক্ত করা হয়েছে যে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রীনগর সহ ভূস্বর্গের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তিতে উস্কানি দিতে পারেন। যা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল বলে বিবেচিত।২০১৬ সালে হুরিয়াত কনফারেন্সকে জড়িয়ে তাঁর একটি বক্তব্য রাজ্যের তরফে উদাহরণ হিসাবে নথিবদ্ধ করা হয়। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে প্রচার করেন বলে অভিযোগ। ৩৭০ ধারা বিলোপের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এই ধারা সাময়িক হলে, জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতের চুক্তিও সাময়িক বলেই গণ্য হবে।’সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রশাসনের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার জন্য বিছিন্নতাবাদী শক্তি হুরিয়াতের মত সংগঠনকে আন্দোলনে হাত মেলানোর কথা বলেছেন। এছাড়া, জাতীয় পতাকার ব্যবহার, পুলওয়াম ঘটনার সময় তাঁর মন্তব্য সহ নানা কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কঠীন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এমন অবস্থা ফারুকের বাবা শেখ আবদুল্লার ১৯৭১ সালে করা জননিরাপত্তা আইনেই আটক তংআরই ছেলে ফারুক আবদুল্লা৷ বিরোধীদের প্রশ্ন ছিলি এই আইনের বলে জঙ্গি, চোরাচালানকারীদের আটক করা হয়৷ তাহলে কেন ফারুক? এর উত্তর মঙ্গলবার দিল প্রশাসন৷ ফারুকের বিরুদ্ধে  বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সরাসরি মদত দেওয়ার অভিযোগ এনে৷ ফারুক আবদুল্লার আগে জম্মু কাশ্মীরের আরেক নেতা শাহ ফয়জলকেও এই আইনে আটক করা হয়েছে। ১৯৭৮ সালের ৮ এপ্রিল জম্মুকাশ্মীর জনসুরক্ষা আইনে সিলমোহর দেন জম্মু কাশ্মীরের তৎকালীন রাজ্যপাল। এ আইনকে প্রায়শই ড্রাকোনিয়ান আইন বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। শেখ আবদুল্লার সরকার এ আইন চালু করেছিল। ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে এই আইন সংশোধন করা হয়। সংশোধনীর ফলে রাজ্যের বাইরেও কোনও ব্যক্তিকে এই আইনবলে আটক করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here