kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উৎসবের মধ্যেই ভারত সফরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বৈঠক করবেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে তিস্তা জলবন্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা সম্ভবত এবারও হচ্ছে না। যার মূল কারণ হিসাবে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই বৈঠকে অনুপস্থিতিকেই দায়ী করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গের অনুমোদন ছাড়া তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশকে কোন প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। যে কারণে মোদী-হাসিনার প্রস্তাবিত বৈঠকে তিস্তার জলবণ্টন এর বিষয়ে কোন রকম ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে তারা মনে করছেন। যার ফলে মোদী-হাসিনা বৈঠকের আগেই কিছুটা হতাশ সে দেশের সরকার।

বিদেশমন্ত্রক সূত্রের খবর, আগামী ৩ থেকে ৬ অক্টোবর ভারত সফর করবেন শেখ হাসিনা। সফরকালে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রক চেয়েছিল ৫ অক্টোবর মোদী-হাসিনার প্রস্তাবিত বৈঠকে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকেন। যাতে বাংলাদেশের কাছে বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা এগোনো যায়। কিন্তু কেন্দ্র বা রাজ্য কোন তরফ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই বৈঠকে উপস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের এক কূটনৈতিক কর্তা জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন দিনের ভারত সফরকালে তিস্তার জল বন্টন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ৪ থেকে ৮ অক্টোবর দূর্গা পূজা। ওই সময় মমতা বন্দোপাধ্যায় কলকাতায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।’

তবে, নবান্নের কর্তারা জানিয়েছেন ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিদেশমন্ত্রক বা প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ এসে পৌঁছায়নি। কাজেই বৈঠকে তার উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা বৃথা। পাশাপাশি পুজোর ক’দিন সাধারণত কলকাতার বাইরে বেরোন না মুখ্যমন্ত্রী। কাজেই ওই সময় দিল্লিতে গিয়ে মোদী-হাসিনার সঙ্গে তার বৈঠকে বসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বিশেষত দিন কয়েক আগেই দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন মমতা। সেই বৈঠকে এনআরসি সহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি নিয়ে একটা কথাও হয়নি মোদী মমতার মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের মতে সে ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে পুনরায় ওই বিষয় নিয়ে বৈঠক করতে চাইবেন না সেটাই স্বাভাবিক। তাদের পর্যবেক্ষণ ২০১৭ সালে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে মোদী হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের তিস্তা নিয়ে রাজ্যের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করে বাংলাদেশকে তিস্তার জল দেওয়া যে সম্ভব নয় তা ওই বৈঠকে স্পষ্ট করে ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাবনায় একরকম দাঁড়ি টেনে দিয়েছেন তিনি। তিস্তার বিকল্প হিসেবে উত্তরবঙ্গের অন্য কয়েকটি নদীর জল বাংলাদেশকে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন মমতা। সে ক্ষেত্রে নতুন করে তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হবেন না সেটাই স্বাভাবিক। তবে শেখ হাসিনার আসন্ন সফরে যে এই আলোচনায় অগ্রগতি হবে না তা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত হাসিনা সরকার এবং তার প্রধান কারণ হিসাবে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেই দায়ী করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here