মহানগর ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধর্ষণের একটি সংজ্ঞা যথেষ্ট শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। ওড়িশার হাইকোর্ট একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে জানাল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করাকে ধর্ষণ বলা যায় না। ধর্ষণ আইন অন্তরঙ্গ সম্পর্কে প্রযোজ্য হতে পারে কিনা সেটি নিয়েও বিচারক এস কে পানিগ্রাহী একই সঙ্গে প্রশ্ন তুললেন। বিশেষত যে ক্ষেত্রে মহিলারা স্বেচ্ছায় সম্পর্কে প্রবেশ করেন। একটি ধর্ষণের মামলার জামিনের শুনানিতে রায় দিতে গিয়ে বিচারক পানিগ্রাহী নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে দিয়ে প্রশ্নটি উত্থাপন করেন।

ওড়িশার কোরাপুটে একটি ১৯ বছরের আদিবাসী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগে প্রকাশ, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী একই গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ঘনিষ্টতা বাড়তে বাড়তে শারীরিক সম্পর্কে পৌঁছয়। চার বছর ধরে চলা তাদের সম্পর্কে মেয়েটি দু’বার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

পরবর্তীকালে মেয়েটি ছেলেটির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে জানায় ওই ছাত্রটি মেয়েটির সারল্যের সুযোগ নিয়ে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এবং দু’বার ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভপাতও করিয়েছিল। পুলিশ মেয়েটির বয়ানের ভিত্তিতে ছেলেটিকে গ্রেফতার করে। বিগত ছ’মাস ধরে ছেলেটি হাজতবাস করছে।

আদালতের মামলা চলাকালীন ছেলেটি সহায়তা করবে এবং বাইরে বেরিয়ে মেয়েটিকে কোনওরকম ভীতি প্রদর্শন করবে না এই শর্তে হাইকোর্ট ওই ছাত্রের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে। এই প্রসঙ্গেই তাঁর ১২ পাতার রায়ে বিচারক পানিগ্রাহী ধর্ষণের আইনটির বিস্তারিত আলোচনা করে মন্তব্য করেন, পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা কোনও সম্পর্ক কোনও প্রতিশ্রুতি না থাকলেও ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় (ধর্ষণ) প্রযুক্ত হতে পারে না।

পুরুষদের মিথ্যে বিয়ের প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিয়ে সামাজিক ভাবে অনগ্রসর বা দরিদ্র মেয়েরা যখন ধর্ষণের শিকার হয় তখন তাদের সমস্যার সঠিক মূল্যায়ন করতে ধর্ষণ আইন অনেক সময়েই ব্যর্থ হয় বলে বিচারক পানিগ্রাহী একই সঙ্গে তার রায়ে উল্লেখ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here