kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: পূর্ব রেলের সদর দফতরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে চারজন দমকলকর্মী, দু’জন সিআরপিএফ জওয়ান ও একজন পুলিশকর্মী আছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই খবর নিশ্চিত করেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর রাত ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ লাগে আগুন বিধ্বংসী রূপ নেওয়ার আগে নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন দমকল কর্মীরা। আনা হয় বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ও হাইড্রোলিক ল্যাডার। দমকলকর্মীরা জানতে পারেন, যে ১৩ তলায় আগুন লাগে সেখানে আটকে আছেন বেশ কয়েকজন। এরপর লিফটে করে কয়েকজন দমকলকর্মী সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর বিধ্বংসী আগুনের মুখে পড়েন ওই দমকল কর্মীরা। আগুনের লেলিহান শিখা ও তীব্র ধোঁয়ায় তারা সেখানে আটকা পড়েন। বেশ কয়েকঘণ্টা পর তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। মৃত সাতজনের মধ্যে আছেন চারজন দমকলকর্মী, দু’জন সিআরপিএফ জওয়ান ও একজন কলকাতা পুলিশের কর্মী।

​এদিন পূর্ব রেলের সদর দফতর কয়লাঘাটার ওই অফিসের ১৩ তলায় আগুন লাগে। দ্রুত ছুটে আসে দমকল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন দমকল কর্মীরা। বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ব্যবহারের পাশাপাশি কাজে লাগানো হয় হাইড্রোলিক ল্যাডার। সেই সময় দমকলকর্মীরা জানতে পারেন, ১৩তলায় আটকে আছেন বেশ কয়েকজন রেলকর্মী। দ্রুত উদ্ধারের জন্য ওই দমকলকর্মীরা ১৩ তলায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর তারা মাঝপথে আটকে পড়েন। প্রবল কালো ধোঁয়ায় দমবন্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে তারা সেখানে আটকে পড়েন। পরে জানা যায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। রাতের দিকে উদ্ধারকাজে নামেন হয় ডিজাস্টার মানেজমেন্ট টিমকে। রাত দশটা নাগাদ ঘটনাস্থলে আসেন বিদায়ী পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সন্ধ্যা থেকে ছিলেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু।

​দমকলকর্মী, কলকাতা পুলিশ ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা রাতের দিকে গোটা বাড়িতে তল্লাশি চালাতে থাকেন। তার আগেই ওই বিল্ডিংয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। অন্ধকারের মধ্যে উদ্ধারকারীরা দেখতে থাকেন কেউ আটকে আছেন কিনা। রাত দশটার পর আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু গোটা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয় দমকল কর্মী ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের কর্মীদের।

অন্যদিকে, ​আগুনের লেলিহান শিখায় সার্ভার রুম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে গোটা পূর্ব ভারতে। অনেক জায়গায় বুকিং বন্ধের পাশাপাশি গতি স্লো হয়ে যায় বলে খবর আসতে থাকে। সার্ভার রুম কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে দমকল সূত্রে জানা যাচ্ছে। যার জেরে পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে অনলাইন বুকিং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাত ১০টার পরেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দমকলকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ চালাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here