নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যারাকপুর: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বাংলায় এসে বেশ গর্ব করে বলে বেড়াচ্ছেন আগামি লোকসভা নির্বাচনে নাকি বাংলা থেকে তারা ২০’র বাশি আসন জয় করবেন। কিন্তু বাস্তবে রাজ্যের নানা এলাকায় বিজেপি নেতাদের নানা কুকীর্তি যেমন বিভিন্ন সময় সামনে চলে আসছে তেমনি তাদের শিবির বদলের ধূমও লেগে রয়েছে। তৃণমূলের এক সময়কার নাম্বার টু মুকুল রায় গত বছরই জার্সি বদল করে ফেলেছেন। ঘাসফুল থেকে চলে গিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। রাজ্য বিজেপির অনেক নেতাই ভেবেছিলেন মুকুল রায়ের যোগদানের জেরে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে গেরুয়াতে যোগদানের হিড়িক পড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে গেরুয়া ছেড়ে অনেকেই ঘাসফুল শিবিরে গিয়ে ভিড়চ্ছেন। যেমনটী দেখা গেল রবিবারে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকার মোহনপুর পঞ্চায়েতের বামনপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি নবনির্মিত দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন হল রবিবার। ওই এলাকার একটা বড় অংশ বিজেপি প্রভাবিত ছিল। তবে শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই এলাকায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ চরমে ওঠে। দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মীরা অনেকেই আশা করেছিলেন দল তাদের পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়ানোর টিকিট দেবে। কিন্তু দল তাদের টিকিট দেয়নি। সেই কারনে মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ওই ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতারা রবিবার তাদের সমর্থকদের নিয়ে তৃনমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকার ১০ জন স্থানীয় বিজেপি নেতা তাদের শতাধিক সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখালেন। ফলে নোয়াপাড়ায় দুর্বল হয়ে গেল বিজেপি।

নোয়াপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক সুনীল সিং রবিবার মোহনপুর এলাকায় তৃনমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করে বলেন,’নোয়াপাড়াতে এমনিতেই বিজেপি অত্যন্ত দুর্বল ছিল। রবিবার ওদের ১০ জন স্থানীয় নেতাকর্মী অনুগামীদের নিয়ে তৃনমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে। এরপর এই বিধানসভা এলাকায় বিজেপির সাংঠনিক ধস নামবে। তৃনমূল কংগ্রেসের এই কর্মসূচিতে অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান মলয় ঘোষ, গারুলিয়া পুরসভার উপপুরপ্রধান সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মোহনপুর এলাকার তৃনমূল নেতা নির্মল কর, তন্ময় পোড়েল, সন্দীপ কর, প্রদীপ পাত্র, রাজু দত্ত সহ তৃণমূল নেতৃত্বরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here