মহানগর ওয়েবডেস্ক: আইএএস অফিসারের চাকরি ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন তিনি। তবে আচমকাই নিজের হাতে তৈরি দল জম্মু কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট (জেকেপিএম)-এর সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শাহ ফয়জল। দীর্ঘদিন তাঁকে আটক করে রাখার পর সম্প্রতি মুক্তি দিয়েছিল জম্মু কাশ্মীর প্রশাসন। তারপরই রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এমনটাও শোনা যাচ্ছে যে তিনি নাকি আবার চাকরিতে যোগ দিয়ে ও প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলাতে পারেন।

এই প্রসঙ্গে জেকেপিএম-এর বরিষ্ঠ নেতা ফিরোজ পিরজাদা বলেন, ‘ফয়জল যে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নিশ্চিত। দলের অন্যান্য নেতারা এখন আমাকেই দায়িত্ব দিয়েছেন দলের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।’ অন্যদিকে বেশ কিছু সূত্র দাবি করছে, শাহ ফয়জল ফের একবার প্রশাসনিক কাজে যোগ দিতে পারেন। আইএএস অফিসারের পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিলেও তা মঞ্জুর হয়নি, এই খবর সম্প্রতি তাঁকে জানানোর পর ফয়জল ফিরে আসার কথা ভাবছেন কিনা তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিনি নিজের ইস্তফা জমা দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করলেও জম্মু কাশ্মীরের আইএএস অফিসারদের নামের তালিকা থেকে শাহ ফয়জলের নাম আজ অব্দি সরানো হয়নি। এই প্রসঙ্গে দলের নেতা পিরজাদা বলেছেন, ‘আমরা ঠিক জানি না উনি কী করবেন। মাঝে অনেকবার আমেরিকায় পড়াশোনা করতে যাবেন বলেছিলেন। প্রশাসনিক কাজে ফের যোগ দিতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এখনও স্পষ্ট কিছুই বলতে পারব না।’ উল্লেখ্য, রবিবারই নিজের টুইটার বায়ো থেকে পার্টি প্রেসিডেন্টের পদ সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। যা তাঁর চাকরিতে যোগদানের সম্ভবনা আরও দৃঢ় করেছে।

২০১০ সালে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় শীর্ষ স্থানাধিকারী শাহ ফয়জল জম্মু কাশ্মীরের আইএএস ক্যাডার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে তিনি এক বছরের ছুটি নিয়ে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে যান। ফিরে আসার পর চাকরিতে যোগ না দিয়ে নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেন তিনি। কিন্তু, ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার জম্মু কাশ্মীরের বিশেষাধিকার হননের পর থেকে সব কিছু বদলে যায়। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি কোনও কারণ ছাড়াই শাহ ফয়জলকেও দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়। দিনকয়েক আগেই মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here