নিজস্ব প্রতিবেদক, বনগাঁ: রাজ্যের দুই তৃতীয়াংশ আসনে প্রার্থী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বাকি যে ১৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়া বাকি আছে তার মধ্যে অন্যতম হল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রটি। দীর্ঘদিন ধরেই এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি হিসাবে অনুঘটকের কাজ করে চলেছে মতুয়া ভোট। আর সেই মতুয়া ভোটের কেন্দ্রবিন্দুই হল মতুয়া ধর্মসাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পীঠস্থান ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি। বিগত ৬-৭ বছর ধরে এই ঠাকুরবাড়ির সদস্যরাই রাজনীতির টানাপোড়নে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একপক্ষ বাম থেকে ডানে গিয়ে জোড়াফুল হাতে নিয়েছে আর একদল জোড়াফুল থেকে গেরুয়া শিবিরে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের এই রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই না পসন্দ এই লোকসভা কেন্দ্রের মতুয়া ভোটারদের। কিন্তু কি তৃণমূল কি বিজেপি উভয়েই ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের ওপরেই ভরসা রেখেছে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে। তৃণমূল যেমন মমতাবালা ঠাকুরকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী করেছে তেমনি বিজেপি থেকেও ওই কেন্দ্রে ঠাকুরবাড়িরই কাউকে প্রার্থী করতে চেয়েছে প্রথম থেকেই। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ঠাকুরনগরে এসে সভা করে গিয়েছিলেন তখন থেকেই শান্তনু ঠাকুররের নাম ঘুরতে শুরু করেছিল প্রার্থী হিসাবে। সেই নামেই যে এবার চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে চলেছে সেটাই জানিয়ে দিলেন মতুয়া মহাসংঘের মুখপাত্র অরবিন্দ বিশ্বাস।

মতুয়া ভক্তরা বেশ কয়েক বছর ধরেই দাবি করে আসছিল ঠাকুরবাড়ির সদস্যরা যেন রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন। সেই আর্জির কথা মাথায় রেখেই রাজ্য বিজেপির তরফে সদ্য সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বাগদার বিধায়ক দুলাল বরের নাম ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে আবার বিরোধ বাধে মতুয়া মহাসংঘের শান্তনু ঠাকুরের গোষ্ঠীর সঙ্গে দুলাল গোষ্ঠীর। এমনকি সদ্য প্রয়াত মতুয়া মহাসংঘের প্রধান উপদেষ্টা বীণাপানি দেবীর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে শান্তনু গোষ্ঠীর আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছে দুলাল বরকে। এরপরই যেহেতু তৃণমূলের তরফে মমতাবালা ঠাকুরকে আগেই তাদের প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরা হয়েছিল তাই বিজেপির একাংশ শান্তনুকেই তাদের প্রার্থী হিসাবে পেতে গলা চড়াতে শুরু করে। তারই জেরে সম্প্রতি ঠাকুরবাড়িতে একটি মতুয়া মহাসংঘের সভা অনুষ্ঠিত হয় সাম্প্রতিককালে যেখানে মতুয়া মহাসংঘের সাধু, গোষাই, পাগল, ও শিষ্যরা যোগদান করেছিল। সেই বৈঠকের পরেই সংঘের মুখপাত্র অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক হয়েছে প্রধানমন্ত্রী সভায় যেহেতু শান্তনুকেই বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরা হয়েছিল তাই তাকেই প্রার্থী করার জন্য বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হবে।

 

এরপরেই মোটামুটি পরিস্কার হয়ে গিয়েছে যে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে এবার লড়াউ হতে চলেছে জ্যাঠিমা বনাম দেওরপোর। কারণ বীণাপানি দেবীর বড় ছেলের বউ মমতাবালা ঠাকুর ও ছোট ছেলের কনিষ্ঠ পুত্র হলেন শান্তনু ঠাকুর। স্বাভাবিক ভাবেই বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের লড়াই এবার অন্যমাত্রা পেতে চলেছে। একদিনে দিদিমণির সৈনিক হিসাবে মাঠে নেমে পড়েছেন মমতাবালা এবং অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মান বাঁচাতে নামতে পারেন শান্তনু। এখন সবাই অপেক্ষা করছে সেই অমোঘমুহুর্তের জন্য যখন বিজেপির তরফে শান্তনুর নাম ঘোষিত হবে তাদের প্রার্থী হিসাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here