ডেস্ক: এনডিএ নদীতে ভাঙন ঠেকাতে ইতিমধ্যেই বাঁধ বুনতে শুরু করেছেন মোদী-শাহ জুটি। কিন্তু আলগা বাঁধে চুঁইয়ে চুঁইয়ে যেভাবে জল গড়াচ্ছে তাতে যেকোনও মুহূর্তে এনডিএর এই ঘুণ ধরা বাধ ভাঙ্গার আশঙ্কাই করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া ধরাশায়ী হবে কিনা সেটা অবশ্য সময় বলবে। কিন্তু বর্তমানে শরিক দলের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের জটিলতা যে খারাপতর হয়ে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাম্প্রতিক সময়ে যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ শিবসেনা ও বিজেপির দ্বন্দ্ব। শিবের মন ভাঙাতে অমিত শাহের বৈঠকের পরও যে লাভ কিছু হয়নি তার প্রমান মিলল ফের একবার।

সপ্তাহও কাটেনি, কংগ্রেস তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার তীব্র নিন্দা করেছিলেন শাসক দল বিজেপির। বিজেপির হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মিলিয়েছিল এনডিএর বাকি শরিকরাও। তবে সেই পথে হাঁটল না শিবসেনা। বিজেপির এই মন্তব্যের নিন্দা করার পাশাপাশি ইন্দিরা গান্ধীর ভূয়সী প্রশংসাও করলেন শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেন, ‘প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মতো আর কেউই কাজ করেননি দেশের জন্য। তাঁর জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত কোনও ভাবেই দেশের প্রতি তাঁর অবদানকে মুছে দিতে পারে না। জাতীয় নেতাদের অবদানকে অস্বীকার করার মানে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা।’

শুধু তাই নয় শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’ পত্রিকাতে সঞ্জয় আরও বলেন, ‘পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রত্যেক সরকারকেই কিছু না কিছু বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে হয়। জরুরি অবস্থার সেই স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা উচিৎ। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার এই দিনটিকে ইন্দিরা গান্ধী নিজেই ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই সরকারের আমলে তো এমন বহু কালো দিন রয়েছে নোটবন্দি যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এর প্রভাবে।’

তবে শুধু এইটুকুতেই খান্ত থাকেননি সঞ্জয় রাউত বিজেপির দিকে আঙুল তুলে রীতিমতো বিষোদগার করে তিনি বলেন, ‘জওহরলাল নেহেরু, মহাত্মা গান্ধা, সর্দার প্যাটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদ, বি আর আম্বেদকর, সুভাষচন্দ্র বোস এবং বীর সাভারকরের মতো জাতীয় নেতারা দেশের গর্ব। ভারতে থেকে এদের যদি কেউ অপমান করে তাহলে সে হল বিশ্বাসঘাতক।’

আর ঠিক এখান থেকেই উঠে আসছে নানান প্রশ্ন। একে বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার সম্পর্ক খারাপ থেকে খারাপতর। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরও সেখানে কোনও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। বিজেপির বিরোধিতার পাশাপাশি গেরুয়া শিবিরের বক্তব্যকে খণ্ডন কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশংসা অন্য ফুলের মালা বুনছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘রাজনীতির আঙ্গিনায় কেউ কারও শত্রু নয়, তা প্রমান করে ২০১৯ লোকসভার অঙ্ক কিন্তু ঘুরতে চলেছে অন্য পথে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here