bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ রাজনৈতিক সন্ন্যাসের পর হঠাৎ এক দিল্লি গিয়ে বিজেপির উত্তরীয় গলায় নিয়েছিলেন তৃণমূলের শোভন চট্টোপাধ্যায়। তবে সেই উত্তরীয় বেশিদিন গলায় টেকেনি তাঁর। বৈশাখীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বিজেপির নেতাদের বক্র দৃষ্টি পদ্মমোহ ঘুচিয়ে দিয়েছে শোভনের। এরপর ধাপে ধাপে দিদির বাড়ির নেমন্তন্ন। হোয়াটস অ্যাপ মেসেজকে ঘিরে মমতাকে রত্নার অভিযোগ। সব মিলিয়ে অনুমান করা হচ্ছিল ঘাসফুল থেকে দূরে আরও দূরে সরে যাচ্ছেন একদা মমতার সহচর শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সে ভুল এদিন ভাঙিয়ে দিলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন শোভন আমাদেরই লোক। অপেক্ষা শুধু সক্রিয় হওয়ার।

শনিবার কলকাতার এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শোভন কোথাও যায়নি। ও তৃণমূলেরই লোক। তৃণমূলেই আছে। আমরা অপেক্ষা করছি কবে ও সক্রিয় হবে। এবং ও যে তৃণমূলের লোক সেটা নিয়ে তো কোনও দ্বিমত থাকতে পারে না। দল থেকে ও ইস্তফা দেয়নি। আজও তৃণমূলের বিধায়ক এবং কাউন্সিলর। সময় মতো ও সক্রিয় হয়ে যাবে।’ এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে ডামাডোল শুরু হয়েছে। কারণ, বিজেপি থেকে শোভনের দুরত্ব বাড়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শোভনের ভাইফোটার পর বিষয়টা একরকম স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তৃণমূলে যোগ দেওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু কবে তিনি ফের তৃণমূলে যোগ দেবেন তা নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা ছিলই। এরইমাঝে সমস্যা বাধে এক হোয়াটস অ্যাপ মেসেজে। যেখানে শোভনের ফোন থেকে রত্নার ফোনে যে বার্তা যায় তা ছিল কিছুটা এই রকম, “সত্যের জয় হলো, বৈশাখীর সম্মানের জন্য লড়লাম তো? এবার আমাকে মিউচুয়াল ডিভোর্স দাও”। জানা গিয়েছে, এরপরেই রত্না চট্টোপাধ্যায় পাল্টা উত্তরে লিখেন, “সে গুড়ে বালি, কিছুতেই তোমাকে মিউচুয়াল ডিভোর্স দেবো না”। এরপর শোভনের নম্বর থেকে মেসেজ আসে, “তবে তুই মর”। পাল্টা উত্তরে রত্না লেখেন, “শকুনের অভিশাপে গরু মরে না”।

এই মেসেজ পেয়েই দিদির কাছে অভিযোগ জানান রত্না। এদিকে ভাই শোভনের এমন কার্মকাণ্ডে রীতিমতো রুষ্ট হন মমতা। ফল যা হওয়ার তাই। তৃণমূল থেকে কিছুটা হলেও দুরত্ব বেড়ে যায় শোভনের। বহুদিন সংবাদমাধ্যমের নজরের বাইরেই ছিলেন শোভন। এরইমাঝে শোভন ইস্যুতে মুখ খুলে পার্থ জানিয়ে দিলেন, তিনি তৃণমূলেই আছেন। অপেক্ষা শুধু সক্রিয় হওয়ার। তবে হঠাৎ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পিছনে অবশ্য রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বহুদিন পর এবার হয়ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাগ কিছুটা হলেও পড়েছে শোভনের উপর থেকে। আর সেই জন্যই পার্থকে মাধ্যম করে শোভনকে দলে ঢোকার এন্ট্রিপাশ দিয়ে দিলেন মমতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here