মেনন বড় প্রিয়জন, ঘাসফুল সুর তুলেও গেরুয়া নেতার সাক্ষাতে হাসপাতালে শোভন-বৈশাখী

0
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: রাগ দুঃখ অভিমান পর্ব কাটিয়ে ফের তৃণমূলের দুয়ারে পাটা জমিয়েই ফেলেছিলেন শহরের প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। পাকাপাকি ভাবে তৃণমূলে আসার আগে বিজেপি বিজেপি গন্ধটা কাটতে একটু সময় নিচ্ছিলেন তিনি। এরই মাঝে সব হিসেব নিকেশ ওলটপালট হয়ে গেল বঙ্গ রাজনীতিতে বন্ধুত্বের সেরা জুটি শোভন-বৈশাখীর।। গেরুয়া সঙ্গ ত্যাগের পর ফের একবার বিজেপির সান্নিধ্যে এলেন তারা। তাও আবার ছোটখাটো কোনো নেতা নয় সাক্ষাৎ করলেন বজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেননের সঙ্গে।

গেরুয়া দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে সম্প্রতি বৈশাখীকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা ভালোর দিকে ছিলেন শোভন। দিদির কাছে ভাইফোঁটা, পুরানো নিরাপত্তা ফিরে পাওয়া, সব মিলিয়ে সবুজ বাগানে এসে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন শোভন। যদিও সব আনন্দ মাটি হয় এক এসএমএসে। রত্নার ফোনে শোভনের নম্বর থেকে যায় একটি একটি মেসেজ। যেখানে লেখা, ‘সত্যের জয় হলো, বৈশাখীর সম্মানের জন্য লড়লাম তো? এবার আমাকে মিউচুয়াল ডিভোর্স দাও।’ রত্না আবার সেই মেসেজ দেখান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এধরনের মেসেজ দেখে শোভনের উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ দিদি। এরপরই ফের বিজেপির দ্বারে কড়া নাড়তে দেখা গেল শোভনকে। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের বেলভিউ হাসপাতালে অরবিন্দ মেননের শরীরের খোঁজ নিতে স্বশরীরে উপস্থিত হতে দেখা যায় শোভন ও বৈশাখীকে।

যদিও বেলভিউ হাসপাতালে অসুস্থ মেনন সাক্ষাৎকে বিন্দুমাত্র নয় রাজনীতির রং দিতে নারাজ শোভন-বৈশাখী। তাঁদের দাবি মেনন তাদের পরিবারের লোকের মতোই তাই চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত মেননকে দেখতে হাসপাতালে এসেছেন তারা। কিন্তু নিন্দুকরা তা মানবে কেন? জল্পনা-সম্ভাবনা-গুঞ্জন সব কিছুকে এক করে নিন্দুকদের দাবি আদতে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন শোভন ও বৈশাখী। ইচ্ছেটা ছিল ফের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার, কিন্তু শোভনের ফোন থেকে রত্নার কাছে যাওয়া কুকথা ভরা মেসেজে যারপরনাই রুষ্ট হয়েছেন মমতা। ফলে শোভনের তৃণমূল ফেরাও ঝুলছে অনিশ্চয়তার ফাঁসে। এমন সময়ে সদ্য সম্পর্ক চুকিয়ে আসা বিজেপিতে ফের ঝুঁকছেন শোভন রত্না।

উল্লেখ্য, ভাইফোঁটার দিন বিকেলে শোভনের ফোন থেকে রত্নাকে একাধিক অশালীন মেসেজ পাঠানো হয়। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মেসেজ করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে পর্ণশ্রী থানায় জেনারেল ডায়েরি করেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। রত্নার ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, মেসেজ গুলিতে লেখা ছিল, “সত্যের জয় হলো, বৈশাখীর সম্মানের জন্য লড়লাম তো? এবার আমাকে মিউচুয়াল ডিভোর্স দাও”। জানা গিয়েছে, এরপরেই রত্না চট্টোপাধ্যায় পাল্টা উত্তরে লিখেন, “সে গুড়ে বালি, কিছুতেই তোমাকে মিউচুয়াল ডিভোর্স দেবো না”। এরপর শোভনের নম্বর থেকে মেসেজ আসে, “তবে তুই মর”। পাল্টা উত্তরে রত্না লেখেন, “শকুনের অভিশাপে গরু মরে না”। এই ভাবেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। অভিযোগ, বচসায় জড়াতেই শোভনের নাম্বার থেকে একাধিক অশালীন মেসেজ আসতে শুরু করে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান শোভন-পত্নী। যদিও ঘনিষ্ঠ মহলে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি জানান, এই ধরনের অশালীন ম্যাসেজ হয়তো সরাসরি শোভন তাঁকে পাঠাননি। এক্ষেত্রে নাম না করে তাঁর ইঙ্গিত শোভন বান্ধবী বৈশাখীর দিকেই। ফের দলনেত্রীর কাছে আসার আনন্দে আত্মহারা হয়ে শক্তি প্রদর্শন করতেই তিনি শোভনের ফোন থেকে রত্নাকে গালিগালাজ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here