নিজস্ব প্রতিবেদক: রাত পোহালেই সভা অমিত শাহের। বিজেপি এই সভাকে ইতিহাসিক বলে দাবি করতে শুরু করেছে। কড়া নিরাপত্তা বলয়ে রয়েছে সভাস্থল।

 

এক এপারে করে সভাস্থলে প্রবেশ করবেন অমিত শাহ ও শুভেন্দু। এই খবর পাওয়া মাত্রই বিজেপি শিবিরে এসেছে নতুন জোয়ার। কর্মীরা উদ্যমী হয়ে শহর ছেয়ে ফেলেছে গেরুয়া পতাকা ও ব্যানারে।

 

মেদিনীপুর জুড়ে পড়েছে নতুন ব্যানার ‘নতুন বাংলার সাথী’। বিজেপির বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর মুখের ইংগিত? রাজনৈতিক মহল মনে করছে এমনটাই।

 

মেদিনীপুরে ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে চপার নামার মহড়া, হ্যালিপ্যাড পরীক্ষা। কড়া নিরাপত্তা বলয় রয়েছে সভাস্থল।

 

সভাস্থল পর্যবেক্ষণ করেছেন দিলীপ ও লকেট। লকেট বলেন, এই জনসভা ঐতিহাসিক। বাংলার রাজনীতিতে বিরল। আগামীকালের সভা থেকেই দেখা যাবে তৃতমূলকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে।

 

ইতিমধ্যেই কাঁথি উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক বনশ্রী মাইতি ইস্তফা দিয়েছেন। অন্যদিকে মেদিনীপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রণব বসু-ও ইস্তফা দিয়েছেন দল থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় তৃণমূল কিষান ক্ষেতমজুর জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জেলা সভাপতি দুলাল মণ্ডল। দল ও পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ডানকুনি পৌরসভার প্রাক্তন উপ পুরপ্রধান দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। মালদা জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু। এখানে ৬ অঞ্চলের মধ্যে ৫ অঞ্চল সভাপতি পদত্যাগ করেছেন, সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন আরও একজন কার্যকরী সভাপতি। বিষ্ণুপুরের উপ প্রধান সহ ১১ জন কনসিলার ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। ঢাকা শনিবার বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে খবর। মানি ভোটের আগেই পুরসভা দখল করবে বিজেপি।

 

ভাঙন যখন অব্যাহত তখন তৃণমূল কোর কমিটির বৈঠকে পার্থ-অভিষেক-অরূপ-সুব্রত। সূত্রের খবর তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছেন, বোঝা মুক্ত হল দল। নির্বাচনের জন্য জোর কদমে লড়তে হবে, জয় নিশ্চিত।

 

এদিকে, ঝাড়গ্রামে তেমন ভিড় চোখেই পড়ল না পার্কের সভায়। এদিক থেকে অবশ্য অনেকে দায়ী করেছেন ছত্রধরকে। তারমানে জঙ্গলমহলে জোড়া ফুল শিবিরে আবার ভাঙন?! একাংশের মতে, নেতৃত্ব হিসেবে ছত্রধরকে মেনে নিতে পারছেন না বীরবাহা সহ অনেক তৃণমূল নেতৃত্বই।

 

অন্যদিকে, প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ রব। বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য বাবুল-অগ্নিমিত্রা মেনে নিতে পারছেন না শ্যামাপ্রসাদ ও জিতেন্দ্রকে। তাঁদের বক্তব্য, অনেক বিজেপি কর্মীকে মেরেছেন এই দুই নেতা। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। সবুজ শিবিরের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক জিতেন্দ্র অবশ্য গলায় অন্য সুর। বলছেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন বলেননি। তারপরেই অবশ্য তিনি বলেন, ‘বাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ, তৃণমূল নেতৃত্ব হিসেবে অনেক কিছুই করতে হয়েছে।’ বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে দিলীপ বলেন, বাবুলের বুকে ইঁট মারা হয়েছিল। তার খারাপ লাগা স্বাভাবিক। তবে গেরুয়া শিবিরের দিলীপ ও সায়ন্তন এক সুরে বলেন, বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে তাঁকে নিয়ে ভাবা হবে।

 

বিধানসভার অধ্যক্ষ শুক্রবার বলেন, ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়নি। সোমবার এসে শুভেন্দু ইস্তফাপত্র হাতে লিখে জমা দিক। প্রসঙ্গত, অধ্যক্ষের সামনে হাতে লিখে ইস্তফাপত্র জমা দিতে হয়। তা নিয়ে তদন্ত করেন অধ্যক্ষ। পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক বিধায়ককে জানাতে হয়, তাঁকে পদ ছাড়তে থকেও বাধ্য করছে না। এর আগে শুভেন্দু অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন সচিবের হাতে। তাই তা নিয়ে আইনি জটিলতা ছিল।

 

অমিত শাহের সভায় কয়েক ঘন্টা মাত্র বাকি। সভা থেকেই মিলবে আগামীর ইঙ্গিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here