মহানগর ডেস্ক: প্রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলছে কৃষক আন্দোলন। নির্বাচনী প্রচারে ‘ব্যস্ত’ প্রধানমন্ত্রীর দেশের অন্নদাতাদের প্রতি ‘উদাসীন’ মনোভাব দেখে এবার মোদির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। নয়া কৃষি আইনের বিরোধিতা করে এদিন তিনি বলেন, ‘এই কৃষি আইন কৃষকদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে।’

উত্তরপ্রদেশের মিরুট কিসান মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে এসে প্রথম থেকেই রনংদেহি মেজাজে দেখা যায় কেজরিওয়ালকে। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তোপ দেগে এদিন তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলি কৃষকদের ‘ফসলের ন্যায্য দামের’ দাবিকে সামনে রেখে নির্বাচন লড়ে গেছে। কৃষকরা দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকেই সুযোগ দিয়েছে সরকার গঠন করার জন্য। কিন্তু প্রত্যেকেই কৃষকদের প্রতারিত করেছে।’

এদিনের মহাপঞ্চায়েতে কেজরিওয়াল বলেন, ‘কৃষকরা যদি ফসলের ন্যায্য দাম পেত, তাহলে দেশে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা অনেক কমে যেতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের আগে কৃষি ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট মিটে গেলে কৃষকদের কথা কোনও সরকার ভাবেনা।’ ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণেই কৃষকরা লোন শোধ করতে পারেনা। আর তার কারণেই দেশ জুড়ে বেড়ে চলেছে কৃষক আত্মহত্যা। সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত পঁচিশ বছরে সাড়ে তিন লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছে।’

এরপর কৃষকদের পাশের দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের কৃষকদের আজ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। এই কৃষি আইন কর্পোরেটদের সুবিধা করে দেবে, কৃষকরা তাদের নিজেদের জমিতেই শ্রমিক হয়ে যাবে।’ এরপরেই মোদি সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশদের তুলনা করে আম আদমি পার্টির প্রধান বলেন, ‘ অত্যাচারের দিক দিয়ে এই সরকার ব্রিটিশদেরও ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটিশরাও হয়তো এতটাও অত্যাচার চালায় নি। কারণ তারা কৃষকদের ভয় পেত। কিন্তু এই সরকার সব ছাড়িয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি দেশকে ভালবাসে, সে কখনও কৃষক আন্দোলনের বিরোধিতা করবেনা।’

প্রসঙ্গত, গত প্রায় তিনমাসের বেশি সময় ধরে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে কৃষকরা। কৃষকদের সঙ্গে সরকারের দশ দফা বৈঠক হলেও এখনও মেলেনি কোনও রফা-সূত্র। কেন্দ্রের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী দেড় বছরের জন্য কৃষি আইন স্থগিত রাখা হলেও তা কোনও ভাবে প্রত্যাহার করবেনা সরকার। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে ইতিমধ্যেই। এমতাবস্থায় কেন্দ্রের হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রীরা ভোটের প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়লেও কৃষকদের প্রতি ‘উদাসীন’ মনোভাব স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here