ডেস্ক: তাঁর মেধার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল স্কুল জীবন থেকেই মাত্র ১২ বছর বয়সেই তৈরি করেছিলেন উইন্ড মিল, জল ঘড়ি, সান ডায়ালের মতো একাধিক জিনিস। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাত ধরে বাড়তে থাকে পৃথিবীর বিজ্ঞানের গতিও। অভিকর্ষ বলের আবিষ্কর্তা স্যার আইজ্যাক নিউটন। চেয়ারে বসে থাকা নিউটনের সামনে একটি আপেল পড়ার গল্প জানেন না এমন ব্যক্তি পৃথিবীতে কেউই নেই।

১৬৪৩ সালের ৪ জানুয়ারি লিংকনশায়ারের উলসথর্পের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহন করেন নিউটন। একাধারে তিনি ছিলেন, পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং আলকেমিস্ট। নিউটনের প্রাথমিক শিক্ষা বাড়ির পাশের এক ছোট্ট স্কুলে। ১২ বছর বয়সে তাকে গ্রান্থামের ব্যাকরণ স্কুলে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়। সেই বয়সেই তিনি আবিষ্কার করেন চার চাকার এক গাড়ি যা আরোহী নিজেই টেনে চালাতে পারতেন। এরপর নিউটনের কাকা বার্টন কগলিসের রেক্টর তার এই প্রতিভা দেখে তাকে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি করেন। তারপর তাঁর একের পর এক আবিষ্কার নাড়িয়ে দেয় সারা পৃথিবীকে। ১৬৬৮ সালে ৫ জুলাই তিনি লেখেন ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা’ যেখানে তিনি সর্বজনীন মহাকর্ষ এবং গতির তিনটি সূত্র বিবৃত করেন। সারা পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দেয় নিউটনের এই সূত্র।

নিউটনের আবিষ্কার ও বিজ্ঞানের জগতে তাঁর অবদান লিখে শেষ করার মতো নয়। ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দে নিউটন অপটিক্‌স নামক একটি গ্রন্থ লেখেন যাতে তিনি আলোর কণা তত্ত্ব বিষয়ে তার অভিমত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন। এছাড়া তিনি বলেছিলেন, পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের সকল বস্তু একই প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কেপলারের গ্রহীয় গতির সূত্রের সাথে নিজের মহাকর্ষ তত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। শব্দের দ্রুতি এবং শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বিষয়েও তিনি গবেষণা করেন যেখান থেকে এসেছে নিউটনের শীতলীকরণ সূত্র। বর্তমান সময়েও নিউটনের জনপ্রিয়তা কতখানি ছিল তার একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ২০০৫ সালে রয়েল সোসাইটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে কার প্রভাব সবচেয়ে বেশি এ প্রশ্ন নিয়ে একটি ভোটাভুটির আয়োজন করে। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, আইনস্টাইনের চেয়েও প্রভাবশালী নিউটন। ১৭০৩ সাল থেকে ১৭২৭ সাল পর্যন্ত রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি ছিলেন স্যার আইজ্যাক নিউটন।

নিউটনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা সারা বিশ্ব থেকে তাঁকে এনে দিয়েছিল একাধিক সম্মান। ইংল্যান্ডের বিচারালয়ে একজন জনপ্রিয় পরিদর্শকও ছিলেন তিনি। ১৭০৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে নাইট উপাধিত দেয় ইংল্যান্ড সরকার। সমগ্র মহাদেশ থেকেই তার জন্য বিভিন্ন সম্মাননা এসেছিল। এতো সম্মান পেয়েও কোথাও গিয়ে কিছু অপূর্ণতা পেয়ে বসেছিল নিউটনকে। মৃত্যুর কিছুকাল আগে তিনি বলেন, ‘আমি জানিনা বিশ্বের কাছে আমি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছি, কিন্তু আমার কাছে আমার নিজেকে মনে হয় এক ছোট বালক। যে কেবল সমুদ্র উপত্যকায় খেলা করছে এবং একটি ক্ষুদ্র নুড়ি বা খুব সাধারণ ক্ষুদ্রতর পাথর সন্ধান করছে, অথচ সত্যের মহাসমুদ্র তার সম্মুখে পড়ে রয়েছে যা অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেল।’ ১৭২৭ সালের ৩১ মার্চ ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here