নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তর ২৪ পরগণা: ১৯৯৩ সালের একুশে জুলাইয়ের ইতিহাস আমাদের কারুর অজানা নয়। সচিত্র ভোটার কার্ডের দাবিতে মহাকরণ অভিযানের ডাক দেন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সমর্থকরা। কিন্তু যেটা আমাদের অজানা সেটা হল, আজ থেকে ২৫ বছর আগে এই মহাকরণ অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঁচাতে গিয়ে নিজের চাকরি খুইয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের কনস্টেবল সিরাজুল ইসলাম। ২১ বছর ধরে বাড়িতে বসে আছেন সিরাজুল। সেদিনের স্মৃতি রোমন্থন করে সিরাজুল সাংবাদিকদের বলেন, ওইদিন ব্রেবোন রোড দিয়ে মিছিল যাবার সময় পথ আটকে দাঁড়ান লালবাজারের এক কর্তা সহ তার নেতৃত্বে থাকা পুলিশরা। সেখান থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত। সেদিন সেই পুলিশ কর্তার নির্দেশে শুরু হয় পুলিশ জনতার খণ্ডযুদ্ধ, লাঠিচার্জ। মাথা ফাটে মমতার। চোখের সামনে এই ঘটনা দেখে তিনি নিজেকে ঠিক রাখতে পারেন নি। বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের এস আই নির্মল বিশ্বাস, সার্জেন্ট প্রদীপ সরকার এবং ইছাপুর ভদ্রডাঙ্গার বাসিন্দা কনস্টেবল সিরাজুল ইসলাম। মমতাকে বাঁচাতে ও অন্যায়ভাবে লাঠিচার্য বন্ধের জন্য সেদিন সিরাজুল ইসলাম লালবাজারের সেই বড় কর্তার দিকে বন্দুক তাক করেছিলেন। এর পর বাকিটা ইতিহাস। মমতাকে বাঁচানো এবং বড় কর্তার দিকে বন্দুক তাক করার মত দুটি অপরাধে সিরাজুল সহ তিন জন পুলিশের উপর চলতে থাকে মানসিক নির্যাতন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন সিরাজুল। ১৮ বছর ধরে আইনি লড়াই করার পর পুনরায় চাকরি ফিরে পান নির্মল বিশ্বাস। অন্যদিকে সার্জেন্ট প্রদীপ সরকারকে প্রমোশন ছাড়াই অবসর নিতে হয়েছে। আর সিরাজুল ইসলাম হাইকোর্টে কেস করেও টাকার অভাবে বেশিদিন লড়তে পারেন নি ।

সিরাজুল এদিন সাংবাদিকদের বলেন, সেদিনের পর থেকে কোনক্রমে আর্থিক টানাপোড়নের মধ্যেই দিন গুজরান হচ্ছে তাঁর। কখনও পাড়ায় পাড়ায় সবজি বিক্রি করে আর্থিক আবার কখনোও বাড়িতে বেকারের মত বসেই দিন কাটিয়েছেন সিরাজুল। অন্যদিকে নির্মল বিশ্বাস টেলিফোনে বলেন, আজকের মুখ্যমন্ত্রী যদি একবার আমাদের ধর্মতলায় শহিদ মঞ্চে ডাকতেন তাহলে জীবন ধন্য হয়ে যেত। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মত আনন্দ পেতাম। বরাবরই সিপিএম বিরোধী ছিল আমাদের পরিবার। তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর তৃণমূলের বুথ সভাপতি ছিলাম দীর্ঘদিন। বর্তমান সরকারের বহু নেতা মন্ত্রী মঞ্জুল থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সকলের কাছে গিয়েছি কিন্তু চাকরি আর ফিরে পেলাম না। অন্যদিকে সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন আবার মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিভাগে কাজ করতে চান। অভাবের সংসারে সিরাজুলরা দুই ভাই বিয়ে করতে পারেন নি। সিরাজুলের বোনও বিয়ের পর, শ্বশুর বাড়ির অত্যাচারে বাপের বাড়িতে চলে এসেছে। পাঁচ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সিরাজুল ও তার দাদা । ভাঙ্গাচোরা এক চিলতে ঘরে কোনো রকমে মাথা গোজার জায়গা। রবিবার পুরমন্ত্রী ফিরাদ হাকিম সিরাজুলকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাড়িতে নিয়ে যান চাকরির ব্যাপারে কথা বলতে। রবিবারের পর আজও দেখা করবেন ফিরাদ হাকিমের সঙ্গে। এখন দেখার রাজ্য সরকার সিরাজুলের পাশে দারায় কিনা।