kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: আরপিএফ জওয়ানদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পরেই  খড়্গপুর ও মেদিনীপুর স্টেশনের সমস্ত আরপিএফ স্টাফকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। লকডাউনে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকলেও এই পরিস্থিতির মাঝে চালু রাখতে হয়েছে অত্যাবশকীয় খাদ্যসামগ্রী তথা এফসিআই-এর চাল সরবরাহ৷ আরপিএফহীন মেদিনীপুর স্টেশনে চালের রেক খোলা হতেই প্রকাশ্যে লুট শুরু করল স্থানীয় বস্তির লোকজন৷ রেল কর্মীরদের তোয়াক্কা না করে লুট হচ্ছে দেখে মেদিনীপুর শহরের কোতোয়ালি থানার দ্বারস্থ হয় স্টেশন কতৃপক্ষ৷

গত বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ল্যাবের পরীক্ষায় খড়্গপুরের আরপিএফ ব্যারাকের ৬ আরপিএফ জওয়ানের করোনা সংক্রমন ধরা পড়েছিল৷ দিল্লি থেকে অস্ত্র আনতে গিয়ে খড়্গপুরে ফেরার দু’দিন পরেই এই জওয়ানদের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল৷ যাদের একজন ছিলেন মেদিনীপুর স্টেশনের আরপিএফ জওয়ান৷ আক্রান্তদের চিকিৎসায় পাঠানো হয় বড়মা হাসপাতালে৷ ঘটনার পরে খড়্গপুর ও মেদিনীপুরে কর্তব্যরত সমস্ত আরপিএফ কর্মীকে বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টিন করে কয়েকটি ব্যারাক সিল করে দেওয়া হয়৷ মেদিনীপুর স্টেশনে ২৮ জন আরপিএফ স্টাফ কর্মরত। তাদেরও কোয়ারেন্টিন করে সরিয়ে দেওয়া হয়৷

নিরাপত্তারক্ষীহীন মেদিনীপুর স্টেশনে  শনিবার এফসিআই-এর চাল ভর্তি ট্রেন হাজির হয়৷ রবিবার সকাল থেকে সেই চাল নামানোর কাজ শুরু হয়েছিল৷ তখনই ভিড় শুরু হয়ে যায় স্টেশন সংলগ্ন বস্তিবাসীর৷ যার বেশিরভাগই ছিলেন মহিলা৷ তারা বস্তা, ঝুড়ি নিয়ে এসে স্টেশনের পাশে থাকা চাল ভর্তি ট্রেন থেকে চাল লুট শুরু করেন৷ ট্রেনের পাশে পড়ে থাকা চাল ঝাঁট দিয়ে কুড়িয়ে নেওয়া ছাড়াও আনলোড করার বস্তা থেকেও চাল বের করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ আরপিএফ নেই দেখতে পেয়ে ভিড় শুরু হয়ে যায় বস্তিবাসীর৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তিনি কোতোয়ালি থানার পুলিশকে জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোতোয়ালি থানার পুলিশ এলাকায় ঢুকতেই পালিয়ে যান ওই মহিলারা। পরিস্থিতি দেখে দীর্ঘক্ষণ কাজ বন্ধ রাখেন দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here