একাকীত্বের অবসান ঘুচিয়ে সঙ্গিনীর সঙ্গে মধুচন্দ্রিমার অপেক্ষায় সোহেল

0
82
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝাড়গ্রাম: নিঃসঙ্গ একাকী জীবন এবার ঘুচতে চলেছে সোহেলের। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে শুধুই কেটেছিল তার নিঃসঙ্গ অসহায় জীবন। কাঁটাতারের বেড়ার পাশের ঘরকন্না জীবন দেখা ছাড়া তার তো আর কিছুই করার ছিল না তার। দু বছরের সেই নিঃসঙ্গ অসহায় একাকীত্ব জীবনের এবার অবসান হতে চলেছে সোহেলের। কারন তার জন্য এসেছে সঙ্গিনী। আপাতত কিছুটা আড়ালে থাকছে সোহেলের সঙ্গিনী। সোমবার ভোরে ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে নিয়ে আসা হয়েছে উত্তরবঙ্গের খয়েরবাড়ি পূর্নবাসন কেন্দ্র থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী লেপার্ডকে। সোমবার কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার পরে জু কর্তৃপক্ষ হোর্ষিনীকে পুরুষ লেপার্ড সোহেলের এনক্লোজারে ছেড়ে ছিল। কিন্তু জু সূত্রে জানা গিয়েছে হোর্ষিনী সোহেলের কাছাকাছি যেতে চায়নি, বরং লাফ দিয়ে এনক্লোজার টোপকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এটি দেখার পর জু কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় আপাতত আলাদা রাখা হবে হোর্ষিনীকে। তবে দুজনের যাতে সব সময় দেখা হয় তার জন্য পাশের এনক্লোজারে ব্যবস্থা করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

গত ১২ফেব্রুয়ারী খয়েরবাড়ি চা বাগানে এক মহিলার কোল থেকে বাচ্চাকে তুলে নিয়ে খেয়ে নেয় হোর্ষিনী। তারপরেই তাকে ধরে খয়েরবাড়ি রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছিল। এদিকে ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে সোহেল একা থাকায় তার সঙ্গীনির প্রয়োজন ছিল। তাই হর্ষিনীকে আনা হল ঝাড়গ্রামে। তবে এত রাগী প্রেমিকার মন গলানোর জন্য হর্ষিনিকে সোহেলের পাশের খাঁচায় রাখা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে পুজোর সময় থেকেই একসঙ্গে থাকবে দুজন। সোহেলের একেবারে পাশেই একটি এনক্লোজারে রাখা হয়েছে হোর্ষনীকে। জু কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রতিদিন দুজন দুজনকে দেখার ফলে এদের মধ্যে সখ্যতা তৈরি হবে। আর তার পরে দুজকে একই সঙ্গে রাখা হবে। বনদফতর সূ্ত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক আগে ২০১৭ সালের আক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গের খয়েরবাড়ি থেকে পুরুষ লেপার্ডটিকে আনা হয়েছিল ঝাড়গ্রামে জু’তে। সেই থেকে বছর বারোর সোহেল নামে লেপার্ডটি একাকি ছিল। অন্যদিকে জু’তে লেপার্ড আসার ফলে পর্যটকদের আনাগোনা অনেক বেড়ে গিয়েছে। তারমধ্যে হর্ষিনী এসে পড়ায় পর্যটকদের মধ্যে আকর্ষন আরও বাড়বে বলে মনে করছে বনদফতর।

kolkata bengali news

এর আগে সফল ভাবে ঝাড়গ্রামের চিড়িয়াখানায় হায়নার প্রজনন হয়েছে। সেইভাবেই হর্ষিনী আসায় এই জু’তে লেপার্ডের প্রজনন ঘটানো সম্ভব হবে। পুজোর মরশুমে দুই দামাল লেপার্ড যুগলকে দেখতে উৎসাহী মানুষের ভীড় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনিতেই ছুটির দিনে গড়ে আট দশ হাজার মানুষ আসে ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে। এখন জোড়া লেপার্ড দেখতে পাওয়া যাবে বলে আগের তুলনায় ভীড় বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কের জু সুপার জনার্দ্দন ঘোষ বলেন, ‘আপাতত হর্ষিনী এবং সোহেলকে আলাদা রাখা হয়েছে। হস্তি শাবক ফাল্গুনী চলে যাওয়ার পর কর্মীদের মধ্যে বিষণ্ণতা গ্রাস করেছিল। তবে হর্ষিনী এখন চলে আসায় খোস মেজাজে রয়েছেন তারা। আগের তুলনায় পূজোর আগে দর্শনার্থী বাড়বে এই চিড়িয়াখানায়।’ এই বিষয়ে ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হলেচ্ছি বলেন, ‘এখন সপ্তাহ খানেক আলাদা থাকবে সোহেল আর হোর্ষিনী। তবে হোর্ষিনীকে সোহেলের পাশের এনক্লোজারেই রাখা হয়েছে। ফলে দুজন দুজনকে দেখতে পাবে, গন্ধ পাবে। ফলে পরিচিতি ঘটবে। যার জেরে আগামি দিনে জু’তেই প্রজনন ঘটানো সম্ভব হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here