ডেস্ক: পুলওয়ামা বিস্ফোরণ কাণ্ডে সদ্যই স্বামীকে হারিয়ে শোক বিহ্বল বাবলু সাঁতরা। ভারতীয় জওয়ানদের উপর পাক মদত পুষ্ট জইশ জঙ্গির হামলার পালটা প্রত্যুত্তর দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই প্রসঙ্গে বাবলু সাঁতরার স্ত্রী মিতা সাঁতরাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তিনি কোনওভাবেই যুদ্ধ চান না। বরং তিনি চান দেশে শান্তি ফিরুক। স্বামী মারা যাওয়ার পর, এমনকি বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইকের পরও নিজের এই অবস্থানের কথাই বলেছিলেন তিনি। মিতা সাতঁরার স্পষ্ট দাবি যুদ্ধে যে সমস্ত সেনার মৃত্যু হয় তাঁদের ক্ষতিপূরণ করার কোনও সান্ত্বনা হয়না। এছাড়াও ভারতীয় জওয়ানদের উপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আকাশপথ ছেড়ে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন না হয়ে অকারণে তাদের রাস্তা দিয়ে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মিতা সাতঁরার এই বক্তব্যের পরই তাঁর উপর আক্রমণ শানিয়েছেন ফেসবুক ‘যোদ্ধা’রা। যুদ্ধের বিরোধিতা করায় তাঁর উপর নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে বলে দাবি মিতা সাঁতরার। যা দেখে অনেকেই বলছেন, এই ‘দেশপ্রমিকরা’ আসলে কারা? তবে তাতেও ভেঙে পড়ছেন না মিতা। হাওড়া বাউরিয়ার একটি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষিকা তিনি। বলছেন, ‘আমি এখন সোশ্যাল মিডিয়া দেখার অবস্থায় নেই। কিন্তু যুদ্ধ নিয়ে আমি আমার বক্তব্যে এখনও অটল। যারা আমার বিরুদ্ধে বলছেন, তাদের যেমন বলবার অধিকার আছে, তেমনই আমারও মত প্রকাশের অধিকার আছে।’ সেইসঙ্গে তাঁর গলায় নেমে এসেছে সদ্য স্বামীহারার শোকও। তাঁর কথায়, ‘একজন শিক্ষিকা ও একজন ইতিহাসের ছাত্রী হিসেবে জানি যুদ্ধ কোনও স্থায়ী সুরাহা নয়। তাই একজন স্ত্রী স্বামীকে হারান, একজন মা সন্তানকে, একজন শিশু বাবাকে হারায়। কী লাভ এতে?’

ফেসবুকে তাঁকে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা শুরু হয়েছে। এমনকি তাঁর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলেও অপদস্থ করা হয়েছে। তবে মিতা এই সমস্ত কথাতেই মোটেই কর্ণপাত করতে রাজী নন। তিনি বলেন তাঁর স্বামী জওয়ান ছিলেন তাই সকল বায়ুসেনার কর্মীদের কৃতিত্বকে কুর্নিশ। তবে তিনি যে যুদ্ধের ঘোর বিরোধী তা তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here