kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মানুষ কাঁদছে। কারণ মানুষ এখন বড় অসহায়। অনেকের এখন হয়তো আধপেটা খাওয়া জুটছে, আবার অনেককে অভুক্ত থাকতে হচ্ছে। শিশুরা পাচ্ছে না তাদের খাবার। বর্তমানে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে চলতে থাকার লকডাউনের কারণে। প্রায় আড়াই মাস হতে চলল গোটা দেশের লকডাউন চলছে। এই সময় মানুষের কাজ বন্ধ। ফলে আয় নেই। সংসার চলছে না বহু মানুষের। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পাওয়া কিছু ত্রাণ দিয়ে তারা বাঁচার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় সেই মানুষজনের পাশে দাঁড়িয়ে লকডাউন এর শুরুর দিন থেকে আজ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় খাবার বিলিয়ে চলেছেন কয়েকজন যুবক। প্রত্যেকদিন নিয়ম করে একটি এলাকায় গিয়ে তারা সেখানকার অসহায়, দুঃস্থ মানুষজনের হাতে তুলে দিচ্ছেন তাদের প্রয়োজনীয় খাবারদাবার। এই কাজে একদিন তারা এখনও বিরতি নেননি। ‘মানুষ মানুষের জন্য’- এই আপ্তবাক্যকে সামনে রেখে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন ওই যুবকরা।

‘উত্তরের অগ্রদূত’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ব্যানারে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার অসহায় মানুষজনের নিয়মিত খাদ্য জুগিয়ে চলেছেন দেবাশিস হালদার, অলক দাস, তোতন ঘোষ, রঞ্জিত সরকার, মনোতোষ কুণ্ডু, গোপাল সরকার, নবীন শূর, বিদ্যুৎ দাস, মিঠুন চক্রবর্তী, রাজেশ সিংহ প্রমুখ। শুধু মানুষ নয়, এই সময় নিয়ম করে তারা খাবার দিচ্ছেন পথের কুকুর ও বাঁদরদের। লকডাউনের কারণে খাদ্য সংকটে ভোগা গরিব ও কর্মহীন মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী হিসাবে চাল, ডাল, তেল, সবজি ছাড়াও প্যাকেটজাত রান্না করা খাবার দেওয়ার পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য দুধ বিস্কুটও তারা তুলে দিচ্ছেন নিয়ম করে।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগান এলাকায় বসবাস করেন একেবারে প্রান্তিক মানুষজন। এখন আয় বলতে তাদের কিছুই নেই। ফলে বেঁচে থাকাই দুষ্কর এখন তাদের কাছে। সেই সব মানুষদের কথা ভেবে ওই যুবকরা মালবাজারের নিদাম, ডামডিম, সুনগাজি, নেওড়া নদী চা বাগান এবং তরাইয়ের নিউ চামটা, গুলমা, ফুলবাড়ি, মরিয়ম বাড়ি, লং ভিউ সাপ্টিগুড়ি, বাঁশিবাড়ি চা বাগানের আশপাশে তাদের এই কর্মকাণ্ড চলছে লকডাউনের প্রথমদিন থেকেই। আগামী যতদিন লকডাউন চলবে ততদিন তাদের এই কর্মকাণ্ড চলবে বলে জানিয়েছেন এমন মহৎ কাজ করতে থাকা ওই যুবকরা।

দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিলি করতে গেলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। প্রত্যেকদিন গড়ে প্রায় দু’হাজার মানুষের জন্য নিজেদের পকেটের টাকা থেকে তারা এই কাজ করে যাচ্ছেন। কারও কাছ থেকে তারা কোনও সাহায্য নেননি। এতদিনে গোটা এলাকার লক্ষাধিক মানুষ তাদের কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন এই লকডাউন পিরিয়ডে। সহৃদয় ওই যুবকদের তাই সবাই আশীর্বাদ করছেন, সাধুবাদ জানাচ্ছেন। মানুষের এই আশীর্বাদ তাদের পরম প্রাপ্তি বলে জানিয়েছেন দেবাশিস হালদার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here