kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাবার হাতে ছেলে খুনের ঘটনার জের কাটতে না কাটতেই পরপর আরও দুটি খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালে পূর্ব বর্ধমান জেলায়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ বর্ধমান শহরের তেজগঞ্জ হাইস্কুল পাড়ার বাসিন্দা এক বৃদ্ধকে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতের নাম গোরাচাঁদ দত্ত (৮৪)।  নিহতের স্ত্রী মীরা দত্ত জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টে নাগাদ বাড়ির ভেতর ঢুকতে যেতেই হলুদ গেঞ্জি পরিহিত এক অপরিচিত যুবক ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তাকে কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করায় ওই যুবক তাঁকে জানায়, ভেতরে গিয়ে দেখুন। এরপরেই সে বেরিয়ে যায়। ঘরে ঢুকে দেখেন রক্তাক্ত গোরাচাঁদবাবুর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। কী কারণে এই খুন মীরাদেবী বলতে না পারলেও তার ভাইঝি প্রতিবেশী সুপর্ণা সেনগুপ্ত অবশ্য জানিয়েছেন, প্রায়ই মীরাদেবী বিভিন্ন জায়গায় চলে যান। তখন গোরাচাঁদবাবু একাই থাকেন। এমনকি গোরাচাঁদবাবু কখনই কোনও অপরিচিত কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দিতেন না।

এদিকে, এই খুনের ঘটনার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারই পুলিশকুকুর নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। শুক্রবার সিআইডির ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ শৈবাল দত্তের নেতৃত্বে একটি টিম আসে। এদিন তাঁরা বাড়ির মধ্য থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক অবস্থায় আলমারিতে মেলে ফিঙ্গার প্রিন্টের দাগ।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকালে এই খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকালে মেমারি থানার মণ্ডলগ্রাম কোটালপাড়ায় মাকে খুন করল ছেলে। নিহতের নাম বন্দনা সরকার (৫২)। মেমারি থানার মেমারি ২ নং ব্লকের মণ্ডলগ্রাম কোটাল পাড়ার ঘটনা। এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে ঘাতক ছেলে তাপস সরকারকে। বন্দনাদেবীর ভাইপো রঞ্জিত সরকার জানিয়েছেন, এদিন সকালে প্রতিদিনের মতোই গোয়ালঘর পরিষ্কারের কাজ করছিলেন বন্দনাদেবী। সেই সময় আচমকাই সে ধারালো কাটারি নিয়ে কোপ মারে বন্দনাদেবীর গলায়। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান বন্দনা সরকার। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে বর্ধমান হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠায়। অভিযুক্ত ছেলে তাপস সরকারকে গ্রেফতার করেছে মেমারি থানার পুলিশ।

শুক্রবার নারায়ণদিঘির খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা রবি রায়কে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। বিচারক তাকে ৫দিনের পুলিসি হেফাজতে পাঠান। বুধবার ছেলেকে খুনের পরই পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার মেমারির বাগিলা মোড় থেকে পুলিশ রবি রায়কে গ্রেফতার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here