kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পেশায় পরিচারিকা পঞ্চাশোর্ধ মা। বাড়ি বাড়ি কাজ করে দিন গুজরান হয় মা ও সন্তানের দুই সদস্যের পরিবারে। বরাবরই অভাব লেগেছিল প্রথম থেকেই। যদিও শখ-আহ্লাদ কম ছিল না গুণধর ছেলের। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হেয়ার কাটিং থেকে শুরু করে ব্র্যান্ডেড পোষাক বা জুতো। সময়ের মধ্যে চাই সবকিছুই। অভাবের সামনেও মাথা ঝোঁকাতে নারাজ ছিল সন্তান। অবশেষে ছেলের সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষাই কাল হয়ে দাঁড়ালো। প্রত্যাশা পূরণে ছেলেকে দাবি মতো টাকা দিতে না পারায়, মায়ের মাথা থেঁতলে খুন করল বছর উনত্রিশের ছেলে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকায়। মঙ্গলবার বাড়ি থেকেই অভিযুক্ত ছেলে রাকেশ দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল পৌনে এগারোটা নাগাদ প্রতিবেশীদের থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। পূর্ব পুটিয়ারির বাবুপাড়া এলাকায় একটি ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় নমিতা দত্ত নামে পঞ্চাশোর্ধ এক প্রৌঢ়র মৃতদেহ। বিভিন্ন কারণে মা ও ছেলের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত বলে জানান প্রতিবেশীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, ছেলের দাবি মত টাকা না দিতে পারলেই নিজের মাকে মাঝে মধ্যেই মারধর করত রাকেশ। প্রাথমিক তদন্তে নেমেই স্থানীয় সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, সোমবার রাত ১১টা থেকে মা ও ছেলের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়। রাতভর চলে অশান্তি। ভোর বেলায় নিজের হাতে নমিতা দেবীকে খুন করে ছেলে রাকেশ।

মঙ্গলবার নিজের বাড়ি থেকেই অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জেরায় ধৃত রাকেশ নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মৃতার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের একাধিক ক্ষতচিহ্ন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করার আগে নমিতা দেবীকে অসংখ্য বার কিল, চড়, ঘুষিও মারা হয়েছে বলে অনুমান তদন্তকারী আধিকারিকদের। ধৃত রাকেশ দত্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here