স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকার দাবি, না পেয়ে ছেলেকে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

0
35

নিজস্ব প্রতিবেদক, জলপাইগুড়ি: স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিল। সেটা না পাওয়ায় নিজের ছেলেকেই খুন করল মা। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা গীতা রায়ের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যও ছড়িয়েছে। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম নিশান রায় (১৪)। অষ্টম শ্রেনীর পড়ুয়া নিশানকে বুকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই নিশানের মা গীতা রায়কে আটক করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত গীতা রায়ের মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড় মাগুরমারি এলাকার বাসিন্দা লঙ্কেশ্বর রায়ের স্ত্রী গীতা রায়। কর্মসূত্রে লঙ্কেশ্বর ব্যাঙ্গালোরে থাকেন। আর দুই ছেলে নিশান এবং ঈশানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকত গীতা। তাদের বাড়ির পাশেই থাকত লঙ্কেশ্বরের এক আত্মীয়া। তিনি জানান, বুধবার রাতে গীতার ছোট ছেলে ঈশান তাঁর বাড়িতে শুয়েছিল। আর গীতার সঙ্গে ছিল নিশান। মাঝরাতে হঠাত্ নিশানের চিত্কার শুনে তিনি লঙ্কেশ্বরের বাড়িতে ছুটে যান। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন, নিশানের বুকের উপর বসে রয়েছে তার মা গীতা। তার হাতে ধারালো ছুরি। গীতার ওই রূপ দেখে লঙ্কেশ্বরের ওই আত্মীয়া সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের খবর দেন। তারপর সকলে মিলে তাদের বাড়িতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে গীতা ছুরি ফেলে বাইরে বেরিয়ে আসে। তখন এলাকাবাসী একপ্রকার জোর করেই গীতার ঘরের ভিতর ঢুকে রক্তাক্ত নিশানকে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, গীতাকে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে আটক করে রাখে। যদিও নিশানকে বাঁচানো যায়নি। ক্রমে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ঝাড় মাগুরমারী এলাকার বাসিন্দারা গোটা ঘটনাটি জানিয়ে স্থানীয় থানায় খবর দেয়। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ গীতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

গীতা কেবল নিশান নয়, ঈশানকেও খুন করার চেষ্টা করেছিল বলে লঙ্কেশ্বরের ওই আত্মীয়ার অভিযোগ। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, গীতা রাতে ঈশানেরও খোঁজ করছিল। কিন্তু সে বাড়িতে না থাকায় তাকে মারতে পারেনি। স্বামীর থেকে ৫০ হাজার টাকা না পাওয়ার জন্যই গীতা এভাবে নিজের ছেলেকে খুন করল বলে লঙ্কেশ্বরের ওই আত্মীয়ার দাবি। গীতার মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘গীতা মাঝেমধ্যেই মানসিক ভারসাম্যহীনের মতো আচরন করত। সম্প্রতি সে লঙ্কেশ্বরের কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় অদ্ভূত আচরণ করতে শুরু করেছিল।’ তাছাড়া যে ছেলে রাতে রান্না করে, নিজের হাতে মাকে খাবার খাইয়ে, ওষুধ খাইয়ে ঘুমোতে যায়, সেই ছেলেকে খুন করা মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ বলে প্রতিবেশীদেরও দাবি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। লঙ্কেশ্বর এলেই গীতার মানসিক সুস্থতার ব্যাপারটি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ব্যাঙ্গালোর থেকে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন লঙ্কেশ্বর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here